বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল বারেক মোল্লার বিরুদ্ধে বিএনপি কার্যালয়সহ বিপুল পরিমাণ জমি ও মার্কেট দখলের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে হাতছাড়া থাকা এসব স্থাবর সম্পত্তি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফেরত পেতে প্রশাসনের জোরালো হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।
শুক্রবার (৩১ জুলাই ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টায় কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক জনাকীর্ন সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ উত্থাপন করেন কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আবদুল আজিজ মুসুল্লী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আজিজ মুসুল্লী জানান, ১৯৬৫ এবং ১৯৯৭ সালের সাব-কবলা দলিলসূত্রে প্রাপ্ত জমি এবং কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশে নির্মিত বিএনপি কার্যালয় ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আবদুল বারেক মোল্লার নেতৃত্বে দখল করে নেওয়া হয়। পরবর্তীকালে সেখানে বিএনপির অফিস উচ্ছেদ করে আওয়ামী লীগের কার্যালয় বসানো এবং সামনের অংশে অবৈধভাবে মাটি ভরাট করে বাণিজ্যিক মার্কেট গড়ে তুলে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা কোনো প্রতিশোধ বা সংঘাতের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। গত ১৭ বছর মামলা-হামলার শিকার হয়েও আমরা ধৈর্য ধরেছি। বর্তমানে আমাদের দল ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও আমরা আইন হাতে তুলে না নিয়ে ন্যায়বিচারের আশায় প্রশাসনিক ও সামাজিকভাবে সুরাহার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন বাবুল ভূঁইয়া ও যুবদল নেতা নূরে আলম শেখ অভিযোগ করেন, খতিয়ানভুক্ত নিজস্ব জমিতে তাদের তৈরি মার্কেটও পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীর ও বারেক মোল্লা গং গায়ের জোরে দখল করে নেয়। এতে বাধা দিতে গিয়ে তারা রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক হয়রানি ও একাধিক মামলার মুখোমুখি হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান সোহেলসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল বারেক মোল্লা। তিনি দাবি করেন, “আমার ব্যক্তিগত কোনো মার্কেট বা জমি দখলের ঘটনা নেই। উল্লিখিত মার্কেট ও জমির প্রকৃত মালিক আমার ভাতিজা বেল্লাল মোল্লা, যা ১৯৯৯ সালে বৈধভাবে ক্রয় করা হয়েছে। বর্তমানে উক্ত জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান ও নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। কুয়াকাটা বেড়িবাঁধের বাইরে বিএনপির কখনো কোনো কার্যালয় ছিল না; রাজনৈতিকভাবে সুবিধা নিতে ও হয়রানি করতেই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।” ছবি সংগৃহীত।

