বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
পর্যটন নগরী সাগরকন্যা কুয়াকাটায় জালনোটের অবাধ প্রচলন ও ব্যবহার প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে এক জনসচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টায় বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের যুব পান্থনিবাস হলরুমে বিশেষ এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক বরিশালের আয়োজনে এবং মহিপুর থানা সংলগ্ন কুয়াকাটা, আলীপুর ও মহিপুর এলাকার ১৪টি তফসিলী ব্যাংকের সার্বিক সহযোগিতায় কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা, সাধারণ গ্রাহক এবং ব্যবসায়ী সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, পটুয়াখালী আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক ও অঞ্চল প্রধান মো: মনিরুজ্জামান মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংক বরিশালের পরিচালক মোঃ এমদাদুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক বরিশালের অতিরিক্ত পরিচালক সঞ্জয় কুমার দত্ত। অনুষ্ঠানটি চমৎকারভাবে সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক কুয়াকাটা শাখার ব্যবস্থাপক এ.কে.এম মোর্শেদ।
কর্মশালায় প্রজেক্টরের মাধ্যমে বাস্তব দৃশ্য তুলে ধরে আসল নোট ও জাল নোটের পার্থক্য এবং খুব সহজে আসল টাকা চেনার নানা কার্যকর পদ্ধতি উপস্থাপন করেন অগ্রণী ব্যাংক কুয়াকাটা শাখার ব্যবস্থাপক মোঃ সোহেল রানা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বরিশালের পরিচালক মোঃ এমদাদুল হক বলেন, “আমাদের অসচেতনতার কারণেই অসাধু চক্র জাল টাকার ব্যবহার বাড়াতে সক্ষম হয়। লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রতিটি মানুষকে সচেতন হতে হবে, আর এই গণসচেতনতাই পারে জালনোটের প্রসার পুরোপুরি রুখে দিতে।”
বক্তব্যকালে তিনি স্থানীয় ব্যাংক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এক কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “এখানে আসার পর অভিযোগ পেয়েছি যে স্থানীয় ব্যাংকগুলো সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ছেঁড়াফাটা নোট নিতে চায় না। এরপর থেকে এ ধরনের কোনো অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কর্মশালায় অগ্রণী ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, পুবালী ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকসহ ওই এলাকার ১৪টি নিবন্ধিত তফসিলী ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ছবি সংগৃহীত।

