পটুয়াখালী প্রতিনিধি :
এক গৃহবধূর সঙ্গে অনৈতিক ও পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক স্থানীয় নেতাকে বেধড়ক মারধর ও পিটুনির ঘটনা ঘটেছে। আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পিটুনির শিকার ফারুক হোসেন প্যাদা দাসপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। বুধবার (২৯ জুলাই ২০২৬) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নে এ অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এক গৃহবধূর সঙ্গে ফারুক হোসেনের দীর্ঘদিনের অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে—এমন অভিযোগ এনে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে আটক করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করেন। ঘটনার খবর দ্রুত চারপাশে ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে অন্যান্য স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
তবে এ অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত বলে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ফারুক হোসেন প্যাদা। তাঁর পাল্টা দাবি, স্থানীয় সাইদুল ও পারভেজসহ মৃধা বাড়ির ৪-৫ জন ব্যক্তি পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে তাঁর ওপর হঠাৎ হামলা চালিয়েছেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা নগদ ৫০ হাজার টাকা ও একটি ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
ফারুক আরও বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে পরকীয়া বা অনৈতিক সম্পর্কের কথা বলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আগে থেকেই তাঁদের সঙ্গে আমার বিরোধ ছিল। সেই বিরোধকে রূপ দিতেই আমাকে পরিকল্পিতভাবে মারধর করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”
অন্যদিকে অভিযুক্ত গৃহবধূর শাশুড়ির অভিযোগ, ফারুক দীর্ঘদিন ধরে তাঁর পুত্রবধূকে নানাভাবে উত্যক্ত করতেন এবং টাকা-পয়সার নানা লোভ দেখাতেন। এ বিষয় নিয়ে ইতিপূর্বে স্থানীয়ভাবে সালিশ-বিচার হলেও তিনি তা তোয়াক্কা না করে আবারও কুপ্রস্তাব দেওয়া শুরু করেন।
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানান, মারামারির সংবাদ পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ বা এজাহার পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ছবি সংগৃহীত।

