বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী):
পটুয়াখালীর মহিপুরে আলোচিত হারিচ আহমেদ ওরফে মজিবুর হত্যা মামলায় স্থানীয় ৯নং ধুলাসার ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. জসিম উদ্দিন খন্দকারকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আসামি করার প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছেন এলাকাবাসী। জসিম উদ্দিনকে নির্দোষ দাবি করে অবিলম্বে তাঁর নাম মামলা থেকে প্রত্যাহারের জোর দাবি জানানো হয়েছে।
আজ সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টায় তাড়িকাটা দাখিল মাদরাসা সংলগ্ন প্রধান সড়কে ‘৫নং ওয়ার্ডের সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ’-এর ব্যানারে এ বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ওই এলাকার নারী-পুরুষসহ পাঁচ শতাধিক বাসিন্দা অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার দিন ইউপি সদস্য মো. জসিম উদ্দিন খন্দকার নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের খবর পেয়ে একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং মুমূর্ষু অবস্থায় আহত হারিচ আহমেদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা করেন। অথচ অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে তাঁকে রাজনৈতিক ও ষড়যন্ত্রমূলক ফাঁদে ফেলে এই হত্যা মামলার অন্যতম আসামি করা হয়েছে।
বক্তারা বলেন, মানবিক কারণে যে ব্যক্তি একজন আহত মানুষকে বাঁচাতে এগিয়ে এলেন, তাঁকেই এখন খুনের আসামী হয়ে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। অবিলম্বে পুলিশ প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঠিক সত্যতা উন্মোচন এবং ইউপি সদস্য জসিম খন্দকারের নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়ার জোর দাবি জানান তাঁরা।
মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিনের স্ত্রী নাসিমা বেগম, সন্তান সোহেল খন্দকার, স্থানীয় মান্যগণ্য ব্যক্তিত্ব জামাল শিকদার, শহিদুল ইসলামসহ এলাকার বিশিষ্টজনরা।
উল্লেখ্য, গত ১৯ জুলাই জমিজমা সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতার জেরে নয়াকাটা গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধ হারিচ আহমেদ ওরফে মজিবুরের ওপর প্রতিপক্ষরা নৃশংস হামলা চালায়। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হলে নিহতের ছেলে সাইফুল ইসলাম বাবুল বাদী হয়ে ১৮ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০ জনকে অভিযুক্ত করে মহিপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় র্যাবের হস্তক্ষেপে ইতোমধ্যে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

