ধর্ষক পেশায় দর্জি, নাম জানা নেই’: মানসিকভাবে ভেঙে পড়া অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীর বয়ান

ধর্ষক পেশায় দর্জি, নাম জানা নেই’: মানসিকভাবে ভেঙে পড়া অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীর বয়ান

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা এলাকায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের বালিকা শিশু পরিবারে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক নিবাসীর (১৪) অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ওই কিশোরীর ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার পাশাপাশি আদালতে তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। এদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠিত উচ্চপর্যায়ের ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অনুসন্ধান শুরু করেছে।

তদন্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে, গত ১২ জুলাই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ওই কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম জানান, অপরাধী শনাক্তকরণে অকাট্য প্রমাণ হিসেবে ওসিসিতে কিশোরীর ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

একই দিনে ফরিদপুরের ১ নম্বর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তসলিমা আক্তারের আদালতে ভুক্তভোগীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দিতে কিশোরী উল্লেখ করেছে, পেশায় দর্জি এক ব্যক্তি তাকে একাধিকবার যৌন নিগ্রহ করেছে, তবে সে তার নাম বলতে পারেনি। ঘটনার আকস্মিকতায় কিশোরীটি চরম মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছে এবং কারও সাথে কথা বলতে চাইছে না।

পুলিশ জানিয়েছে, এই অপরাধের সাথে জড়িত সন্দেহে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া একমাত্র আসামি ওয়াহিদ শেখকে (৫৪) অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করার প্রস্তুতি চলছে।

অন্যদিকে, ঘটনার অন্তরালের সত্যতা উদ্ঘাটনে জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলামের নির্দেশে একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি কাজ করছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সুস্মিতা সাহার নেতৃত্বে এই কমিটিতে রয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজমীর হোসেন, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি ড. নূপুর পাল এবং সদস্য সচিব সহকারী কমিশনার জান্নাতুল সুলতানা। গত সোমবার থেকে তারা শিশু পরিবারে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ ও নথিপত্র যাচাই শুরু করেছেন। এডিএম সুস্মিতা সাহা জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই তদন্ত রিপোর্ট জেলা প্রশাসকের দপ্তরে পেশ করা হবে।

সরকারি একটি আশ্রয়কেন্দ্রে এমন জঘন্য অপরাধের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) ফরিদপুর ইউনিটের সমন্বয়ক শিপ্রা গোস্বামী। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “সবচেয়ে নিরাপদ ভাবা হয় যে সরকারি প্রতিষ্ঠানকে, সেখানে যদি এমন ঘটনা ঘটে তবে বালিকাদের নিরাপত্তা কোথায়? অতীতেও এখানে এমন ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। আমরা দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”

প্রসঙ্গ উল্লেখ্য, গত ৬ জুলাই সরকারি শিশু পরিবারের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ আরিফ হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। মামলার পর থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কড়া নজরদারিতে রেখেছে প্রশাসন। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *