ডাঃ মোঃ কেরামত আলী, কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ থানার পুরাতন প্রশাসনিক ভবন ভাঙার কাজ চলাকালীন মাটির নিচে থাকা একটি পরিত্যক্ত ককটেল হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়েছে। কোদালের কোপ লেগে ঘটা এই আকস্মিক বিস্ফোরণে ভবনের নিচে কাজ করা দুই নির্মাণ শ্রমিক গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়েছেন। গত শনিবার (১১ জুলাই ২০২৬) দুপুরে আনুমানিক দেড়টার দিকে থানা চত্বরের অভ্যন্তরেই এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।
বিস্ফোরণের পর পুরো থানা এলাকা ও আশপাশের বাণিজ্যিক মহলে তীব্র আতঙ্ক ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।
আহত শ্রমিকরা হলেন— কালিগঞ্জ উপজেলার বাজারগ্রাম এলাকার গফফার মোড়লের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪২) এবং একই গ্রামের বাসিন্দা কামরুল হাসান (৩০)।
থানা পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নিয়ম মেনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কালিগঞ্জ থানার বহু বছরের পুরোনো ভবনটি ভেঙে অপসারণের কাজ বেশ কিছুদিন ধরে চলছিল। ঘটনার দিন দুপুরে শ্রমিকরা ভবনের ভেতরের ফ্লোর (মেঝে) ভেঙে তার নিচের মাটি কাটার কাজ করছিলেন। এ সময় শ্রমিক রফিকুল ইসলাম মাটির গভীরে কোদাল দিয়ে জোরে আঘাত করলে, সেখানে পূর্ব থেকে অত্যন্ত গোপন অবস্থায় পুতে রাখা একটি শক্তিশালী পরিত্যক্ত ককটেল বা হাতবোমার ওপর কোদালের অগ্রভাগ লাগে। সাথে সাথেই পুরো এলাকা কাঁপিয়ে বিকট শব্দে ককটেলটির বিস্ফোরণ ঘটে।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় শ্রমিক রফিকুল ইসলামের দুই হাতের কব্জি উড়ে যাওয়ার উপক্রম হয় এবং মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্প্লিন্টারের আঘাতে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। এ সময় তাঁর ঠিক পাশে থাকা অপর শ্রমিক কামরুল হাসানও ছিটকে পড়েন এবং তাঁর ডান পায়ে বোমার কণা লেগে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়।
বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শুনে থানা ভবনে থাকা ডিউটি অফিসারসহ কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা এবং স্থানীয় দোকানদাররা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁরা রক্তাক্ত অবস্থায় ছটফট করতে থাকা দুই শ্রমিককে উদ্ধার করে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। বর্তমানে তাঁরা সেখানেই চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বাজারের ব্যবসায়ীরা বিস্ময় প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বিস্ফোরিত ককটেলটি হয়তো কোনো সহিংসতার সময় বা বহু বছর আগে অপরাধীদের দ্বারা ভবনের ফ্লোরের নিচের নরম মাটিতে পরিত্যক্ত অবস্থায় লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, যা থানা পুলিশ কিংবা সাধারণ মানুষের এত বছর ধরে সম্পূর্ণ অজানা ছিল।
কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, “থানার পুরাতন ভবনটি ভাঙার কাজ চলাকালে দুপুরে হঠাৎ একটি বিকট শব্দ হয়। শব্দ পাওয়া মাত্রই আমিসহ থানা পুলিশের একটি বড় দল ঘটনাস্থলে ছুটে যাই এবং আহত দুই শ্রমিককে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি। ভবনটি অনেক পুরোনো হওয়ায় এর নিচে ককটেলটি কীভাবে বা কবে এলো, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের বিশেষ টিম ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে অবহিত করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এই ঘটনার পেছনের প্রকৃত রহস্য দ্রুত উদঘাটন করা হবে।” ছবি সংগৃহীত।

