বেনাপোল প্রতিনিধি:
ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে বিভিন্ন মেয়াদে দীর্ঘ কারাভোগের পর বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে স্বদেশে ফিরেছেন ৫০ জন বাংলাদেশি নারী ও পুরুষ। আজ রোববার (৫ জুলাই) রাত ৯টার দিকে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিএসএফ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদেরকে বেনাপোল চেকপোস্ট বিজিবি ও ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। ফেরত আসা বাংলাদেশিদের মধ্যে ৪৪ জন পুরুষ এবং ৬ জন নারী রয়েছেন। তাঁরা দেশের যশোর, নড়াইল, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, ঢাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মাদারীপুর, টাঙ্গাইল এবং চাঁদপুরসহ মোট ৯টি বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। এ সময় ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী, পুলিশ প্রশাসন এবং সরকারের উচ্চপদস্থ ও মানবাধিকার সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ফেরত আসাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দুই থেকে তিন বছর আগে ভালো কাজের প্রলোভনে পড়ে দালালের খপ্পর ধরে সীমান্তের অবৈধ পথ দিয়ে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে গিয়েছিলেন এই বাংলাদেশিরা। সেখানে বিভিন্ন বাসা-বাড়ি, তৈরি পোশাক কারখানা (গার্মেন্টস) এবং ইটভাটায় কাজ করার সময় ভারতীয় পুলিশের নিয়মিত অভিযানে তারা আটক হন। পরবর্তীতে বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে না পারায় অনুপ্রবেশের দায়ে সেখানকার আদালত তাঁদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠায়। সাজা শেষ হওয়ার পর ভারতের একটি বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা তাঁদের দায়িত্ব নিয়ে জেলখানা থেকে ছাড়িয়ে নিজেদের শেল্টার হোমে রাখে। পরবর্তীতে কলকাতা ও দিলীস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের দীর্ঘ কূটনৈতিক ও আইনি সহযোগিতায় ভারত সরকারের বিশেষ ট্রাভেল পারমিট ইস্যুর মাধ্যমে আজ তাঁরা প্রিয় জন্মভূমিতে ফেরার সুযোগ পান।
স্বদেশে ফেরার পর আবেগাপ্লুত কণ্ঠে নড়াইলের বাসিন্দা ফিরোজ মাহমুদ জানান, “দালালেরা আমাদের ভালো মাইনে ও সুখের জীবনের স্বপ্ন দেখিয়েছিল। কিন্তু সীমান্তে পা রাখতেই সব ওলটপালট হয়ে যায়। তামিলনাড়ুতে কাজ পাওয়ার কিছুদিন পরই পুলিশ আমাদের ধরে জেলে পুরে দেয়। দীর্ঘ বন্দিজীবন শেষে নিজের দেশের মাটিতে পা রাখতে পেরে এখন বুক ভরে শ্বাস নিতে পারছি।”
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, “ভারত সরকারের বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে ফেরত আসা ৫০ জন বাংলাদেশি নারী-পুরুষের ইমিগ্রেশনের যাবতীয় আইনি ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করা হয়েছে। এরপর তাঁদেরকে রাতেই বেনাপোল পোর্ট থানা হেফাজতে হস্তান্তর করা হয়। সেখান থেকে ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’ নামের একটি বেসরকারি আইনি ও মানবাধিকার সংস্থা তাঁদেরকে আইনি প্রক্রিয়ায় নিজেদের জিম্মায় গ্রহণ করেছে।”
যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের জ্যেষ্ঠ স্বেচ্ছাসেবী শফিকুল ইসলাম বলেন, “ফেরত আসা নাগরিকদের আইনি প্রক্রিয়ায় বেনাপোল পোর্ট থানা থেকে গ্রহণ করে আজ রাতেই আমাদের যশোরের নিজস্ব শেল্টার হোমে নিয়ে রাখা হবে। সেখানে তাঁদের মানসিক কাউন্সেলিং ও প্রাথমিক সেবা দেওয়ার পর খুব দ্রুতই নিজ নিজ পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে তাঁদেরকে স্বজনদের হাতে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও আইনি প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করা হবে।” অবৈধ পথে সীমান্ত পাড়ি না দিতে এবং দালাল চক্রের বিষয়ে দেশের সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সীমান্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ছবি সংগৃহীত।


