অবশেষে সেই বরখাস্ত উপজেলা জামায়াতের আমির

অবশেষে সেই বরখাস্ত উপজেলা জামায়াতের আমির

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

সরকারিভাবে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত বাইসাইকেল বিতরণে চরম অনিয়ম, খামখেয়ালিপনা ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের জেরে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা তাজুল ইসলামকে তাঁর দলীয় সাংগঠনিক পদ থেকে ৩ মাসের জন্য সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দলের ভাবমূর্তি রক্ষা ও অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কোটচাঁদপুর উপজেলা জামায়াতের নতুন ভারপ্রাপ্ত আমির হিসেবে সাবেক শিক্ষক আজিজুর রহমান মাস্টারকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) কোটচাঁদপুর শহরের দুধসর সড়কস্থ আলফালা সেন্টারে আয়োজিত এক বিশেষ রুকন সম্মেলনে জেলা জামায়াতের আমির ও স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর আনুষ্ঠানিকভাবে এই সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা ঘোষণা করেন।

দলীয় ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে আলফালা সেন্টারে শুরু হওয়া রুকন সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন স্বয়ং বিদায়ী উপজেলা আমির মাওলানা তাজুল ইসলাম। তবে জুমার নামাজের বিরতির পর দুপুরের দ্বিতীয় অধিবেশনে তিনি আর সভাস্থলে উপস্থিত হননি। তাঁর এই রহস্যজনক অনুপস্থিতির মাঝেই প্রধান অতিথি জেলা আমির আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর দলের রুকনদের সামনে দেশের সমসাময়িক রাজনীতি ও দলীয় শৃঙ্খলার বিষয়টি তুলে ধরেন। এরপরই তিনি সরকারি বাইসাইকেল কেলেঙ্কারির ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপরাধে মাওলানা তাজুল ইসলামকে ৩ মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্তের ঘোষণা দেন।

খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত উপজেলা আমির আজিজুর রহমান মাস্টার জানান, সম্প্রতি কোটচাঁদপুরে সরকারি তহবিল ও প্রকল্প থেকে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণের জন্য আসা বেশ কিছু বাইসাইকেল বিতরণে সাবেক আমিরের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি বিভিন্ন মূলধারার গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। একটি সুশৃঙ্খল দল হিসেবে জামায়াতের নৈতিক অবস্থান সমুন্নত রাখতেই জেলা কমিটি প্রাথমিকভাবে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

রুকন সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা ও উপজেলার সিনিয়র জামায়াত নেতা মোয়াবিয়া, শরিফুল ইসলাম ও আব্দুর রাজ্জাকসহ উপজেলার প্রায় দুই শতাধিক রুকন (শপথধারী) প্রতিনিধি। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিরুদ্ধে জেলা জামায়াতের এমন তাৎক্ষণিক ও কঠোর অ্যাকশনকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ কর্মী ও স্থানীয় সচেতন মহল। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *