মো: মাসুদ রানা, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কাশিমপুর এলাকায় ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা এবং উর্বর তিন ফসলি কৃষিজমিতে জোরপূর্বক একটি বড় অটোরাইস মিল (আধুনিক চালকল) নির্মাণ বন্ধের দাবিতে তীব্র ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় সর্বস্তরের এলাকাবাসী। মিলটির নির্মাণকাজ স্থায়ীভাবে বন্ধ করার এক দফা দাবিতে আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে ঝিনাইদহ-ঢাকা মহাসড়কের পাশে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন ভুক্তভোগী গ্রামবাসীরা।
হাতে হাত ধরে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ ঘণ্টাব্যাপী চলা এই স্বতঃস্ফূর্ত কর্মসূচিতে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে ওই অঞ্চলের শত শত সাধারণ কৃষক, দিনমজুর, ভ্যানচালক, মাঠপর্যায়ের শ্রমিক এবং স্থানীয় স্কুল-কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
মানববন্ধন চলাকালে প্রতিবাদী সমাবেশে স্থানীয় ভুক্তভোগী প্রবীণ কৃষক ও সমাজসেবকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন— সোহরাব হোসেন, আবু তালেব মোল্লা, জামাল হোসেন, সাইফুল মন্ডল ও মাহবুব মোল্লাসহ আরও অনেকে।
সমাবেশে বক্তারা অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে অভিযোগ তুলে বলেন, ঝিনাইদহ-ঢাকা মহাসড়কের কোল ঘেঁষে থাকা গ্রামীণ জনপদের একমাত্র উর্বর ও তিন ফসলি ফসলি জমিতে ইউনুস আলী নামের এক প্রভাবশালী স্থানীয় ব্যবসায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ উপায়ে ও নিয়মবহির্ভূতভাবে এই পরিবেশ দূষণকারী অটোরাইস মিল নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তিন ফসলি উর্বর কৃষিজমি এবং আবাসিক এলাকায় ভারী শিল্প বা চালকল স্থাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকলেও, সংশ্লিষ্ট মহলের চোখ ফাঁকি দিয়ে এই নির্মাণযজ্ঞ চালানো হচ্ছে।
আন্দোলনরত বক্তারা চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে আরও বলেন, “ঝিনাইদহের এই ঐতিহ্যবাহী উর্বর জমিতে যদি একবার এই অটোরাইস মিলটি পুরোদমে চালু হয়ে যায়, তবে এর থেকে নির্গত বিষাক্ত কালো ধোঁয়া, উড়ান্ত ছাই ও তুষের তীব্র গুঁড়োয় সমগ্র এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হবে। চারপাশের শত শত একর কৃষিজমি স্থায়ীভাবে উর্বরতা হারিয়ে অনাবাদী হয়ে পড়বে এবং আশপাশের সাধারণ বাসিন্দারা ফুসফুসের রোগসহ নানাবিধ জটিল স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়বেন। ফলে এই অঞ্চলের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ ব্যাহত ও নরকতুল্য হবে।”
উপস্থিত সাধারণ কৃষকেরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তাঁরা তাঁদের বাপ-দাদার রক্তের এই সোনার ফসল ফলানোর জমি কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেবেন না। পরিবেশ বিপর্যয় ও গ্রামীণ অর্থনীতি ধ্বংসের হাত থেকে কাশিমপুর গ্রামকে রক্ষা করতে তাঁরা অবিলম্বে ওই স্থানে অটোরাইস মিলের সকল অবৈধ নির্মাণকাজ বন্ধ করার জন্য জেলা প্রশাসক এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায় আগামীতে আরও কঠোর ও লাগাতার আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়। ছবি সংগৃহীত।


