যশোরের করিচিয়া গ্রামে কৃষকবাড়িতে চুরির ঘটনায় ৮ মাস পর মামলা

যশোরের করিচিয়া গ্রামে কৃষকবাড়িতে চুরির ঘটনায় ৮ মাস পর মামলা

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোর সদর উপজেলার করিচিয়া গ্রামে এক কৃষকের বসতবাড়ির আলমারি ভেঙে নগদ টাকা, বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনার দীর্ঘ প্রায় আট মাস পর কোতোয়ালি থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা রুজুর পরপরই পুলিশ ঝটিকা অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় প্রধান আসামি কামরুল শেখকে আটক করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেছে।

আজ শনিবার (২৭ জুন) সকালে করিচিয়া গ্রাম থেকে চোর চক্রের এই সক্রিয় সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

মামলার বিবরণী ও ভুক্তভোগী বাদী করিচিয়া গ্রামের কৃষক তরিকুল ইসলাম জানান, গত বছরের ১৮ অক্টোবর তিনি তাঁর ছোট মেয়েকে নিয়ে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে সাতক্ষীরায় আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। এরপর ২০ অক্টোবর ভোরে তাঁর স্ত্রী রত্না বেগম ফোনে জানান যে, তাঁদের নিজেদের বসতবাড়িতে এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে।

খবর পেয়ে তরিকুল দ্রুত সাতক্ষীরা থেকে করিচিয়ার নিজ বাড়িতে ফিরে এসে দেখেন ঘরের প্রধান ফটক খোলা এবং ভেতরের আলমারি ভাঙা। চোরেরা আলমারি তছনছ করে ভেতরে থাকা নগদ ৭ হাজার টাকা, প্রায় ৫ ভরি ওজনের বিভিন্ন খচিত স্বর্ণালংকার (যার আনুমানিক বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা) এবং একটি দামী ‘রিয়েলমি নোট ৫০’ মডেলের স্মার্টফোন চুরি করে নিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়।

কৃষক তরিকুল আরও জানান, চুরির ঘটনার পর তিনি নিজস্ব উপায়ে খোঁজখবর নিতে থাকেন। পরবর্তীতে স্থানীয় বিশ্বস্ত লোকজনের মাধ্যমে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে জানতে পারেন যে-একই গ্রামের কামরুল শেখ, আসিফ খন্দকার এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জন চোর এই চুরির ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত ছিল। চুরির বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত আসামিরা এলাকা ছেড়ে দীর্ঘ দিন যাবৎ বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিল। সামাজিক ও স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা ও আসামিরা পলাতক থাকায় মামলা করতে কিছুটা বিলম্ব হয় বলে জানা গেছে।

অবশেষে দীর্ঘ আট মাস পর ভুক্তভোগী কৃষক বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় সুনির্দিষ্ট নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রাথমিক তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সাথে কামরুল শেখের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পান। এরপর শনিবার সকালে কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি চৌকস দল গ্রামে অভিযান চালিয়ে কামরুল শেখকে গ্রেপ্তার করে।

যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দীর্ঘ আট মাস আগের চুরির ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামি কামরুল শেখকে আজ দুপুরে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। চুরির ঘটনায় জড়িত অন্য পলাতক আসামি আসিফ খন্দকারসহ অজ্ঞাতনামা চোরদের গ্রেপ্তার এবং চুরি হওয়া ১০ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন উদ্ধারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *