যশোরে ধানের দাম নিয়ে বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাত: চিকিৎসাধীন যুবকের করুণ মৃত্যু

যশোরে ধানের দাম নিয়ে বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাত: চিকিৎসাধীন যুবকের করুণ মৃত্যু

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় ধান ক্রয়-বিক্রয় ও দরদাম করাকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত ছুরিকাঘাতের ঘটনায় গুরুতর আহত যুবক সাহাবির (২০) দীর্ঘ ২৯ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে মারা গেছেন। ঘটনার প্রায় এক মাস পর গতকাল সোমবার (২২ জুন) ভোরে ঢাকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

সাহাবিরের অকাল ও নির্মম মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছামাত্রই পুরো বাঘারপাড়া জুড়ে শোকের মাতম এবং খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নিহত সাহাবির বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুর গ্রামের হানিফার ছেলে।

পারিবারিক ও স্থানীয় রায়পুর বাজার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ মে ২০২৬ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নিজের জমিতে উৎপাদিত ধান বিক্রির উদ্দেশ্যে স্থানীয় রায়পুর বাজারে গিয়েছিলেন তরুণ সাহাবির ও তাঁর বাবা হানিফা। বাজারে ধান নামানোর পর স্থানীয় প্রভাবশালী ধান ব্যবসায়ী সাকিব ও হাসান মণ্ডলের সাথে ধানের দরদাম নিয়ে তাঁদের সামান্য কথাকাটাকাটি ও বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই খুনি সাকিব ও হাসান মণ্ডল ক্ষিপ্ত হয়ে কোমরে থাকা ধারালো ছুরি বের করে বাবা ও ছেলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে সাহাবিরের পেট ও বুক গুরুতর জখম হয় এবং তাঁর বাবা হানিফাও গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। বাজারে থাকা স্থানীয় লোকজন দ্রুত ছুটে এসে খুনিদের ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে দ্রুত যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালে ভর্তির পর বাবা হানিফার শারীরিক অবস্থা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসায় তাঁকে যশোর জেনারেল হাসপাতালেই চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে তরুণ সাহাবিরের পেটে ছুরির আঘাত গভীর হওয়ায় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কর্তব্যরত জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওই দিনই দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তর করেন। ঢাকার একটি হাসপাতালে দীর্ঘ ২৯ দিন ধরে আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে কৃত্রিম উপায়ে তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস সচল রাখা হয়েছিল। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে গতকাল সোমবার ভোরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ঢাকার আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হচ্ছে।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে বাঘারপাড়া থানায় ধান ব্যবসায়ী সাকিব ও হাসান মন্ডলসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তবে ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনরা।

এদিকে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাহাবিরের মৃত্যুর খবর রায়পুর বাজার ও আশপাশের গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে রায়পুর বাজার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের তোড়জোড় চলছে। নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী অবিলম্বে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা সাকিব ও হাসান মণ্ডলকে দ্রুত গ্রেফতার করে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলানোর জন্য যশোর জেলা পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *