‘সরকারকে খুশি নয়, জনগণের জন্য সংবাদ লিখুন’

‘সরকারকে খুশি নয়, জনগণের জন্য সংবাদ লিখুন’

শহিদ জয় :

“বর্তমান যুগ সম্পূর্ণভাবে প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়েছে। তাই সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সাংবাদিকতার সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির যুগোপযোগী সমন্বয় এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি এবং অপরিহার্য বিষয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতা এবং নিখুঁত তথ্য যাচাই বা ফ্যাক্ট চেকিংয়ের আধুনিক দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে আমাদের সাংবাদিকেরা আরও বেশি নির্ভুল, সময়োপযোগী এবং দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য সংবাদ পরিবেশন করতে সক্ষম হবেন। মনে রাখবেন, সংবাদ অবশ্যই শতভাগ সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ হতে হবে—কোনো সরকারকে খুশি করার জন্য নয়, বরং দেশের সাধারণ জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য সংবাদ প্রকাশ করতে হবে।” আজ ২০ জুন ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ শনিবার সকালে ‘প্রেসক্লাব যশোর’ মিলনায়তনে সাংবাদিকদের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত ৩ দিনব্যাপী এক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালার প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এসব কথা বলেন।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)—এর যৌথ ও শক্তিশালী উদ্যোগে এই আধুনিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। আজ ২০ জুন থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ আগামী ২২ জুন পর্যন্ত টানা ৩ দিনব্যাপী চলবে। এবারের কর্মশালায় যশোর জেলার বিভিন্ন নামী প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক এবং অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত প্রায় ৭০ জন পেশাদার সাংবাদিক অংশ নিচ্ছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সাংবাদিকতাকে কেবল একটি সাধারণ পেশা বা রুটি-রুজির মাধ্যম না ভেবে একে একটি পবিত্র ও চরম দায়িত্বশীল কাজ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বর্তমান ডিজিটাল যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ সাংবাদিকদের পাশাপাশি প্রবীণ সাংবাদিকদেরও এ ধরনের আধুনিক প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে যুক্ত করার ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন, যাতে প্রবীণ শিক্ষানবিসেরাও নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের সুন্দরভাবে খাপ খাইয়ে নিতে পারেন। তাঁর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর মতো প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বাড়লেও সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে আদি ও আসল সাংবাদিকতার নৈতিকতা, সততা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

বিগত দিনগুলোর গণমাধ্যমের অবরুদ্ধ পরিস্থিতির কথা স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে চরম রাজনৈতিক নগ্ন প্রভাবের কারণে দেশের গণমাধ্যমগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি এবং সত্য সংবাদ প্রকাশে বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে বর্তমান পরিবর্তিত ও মুক্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমকে আরও স্বাধীন, সোচ্চার ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।”

প্রেসক্লাব যশোরের এই মর্যাদাপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান এবং পিআইবি (প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ)—এর সম্মানিত মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা পরিষদের  প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু এবং প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুনসহ স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

আয়োজক প্রতিষ্ঠান পিআইবির কর্মকর্তারা জানান, তিন দিনের এই নিবিড় ও উচ্চতর প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী ৭০ জন সাংবাদিককে আধুনিক মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট তৈরি, ইন্টারনেটে ছড়ানো গুজব ও ডিপফেক সনাক্তকরণের ফ্যাক্ট চেকিং কৌশল এবং আধুনিক সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) টুলের সঠিক ও কার্যকর ব্যবহার বিষয়ে হাতে-কলমে (প্র্যাক্টিক্যাল) প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যশোরের সাংবাদিকেরা ডিজিটাল যুগের নানামুখী চ্যালেঞ্জ ও সাইবার প্রোপাগান্ডা মোকাবিলায় নিজেদের দক্ষতা আরও একধাপ এগিয়ে নিতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিশিষ্টজনেরা। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *