শহিদ জয়:
যশোরে আন্তর্জাতিক স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের একটি বড়সড় চালান নস্যাৎ করে দিয়ে প্রায় পৌনে আট কোটি টাকার খাঁটি সোনা এবং একটি বিলাসবহুল প্রাইভেট কারসহ দুই পেশাদার চোরাকারবারিকে হাতেনাতে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আজ ২০ জুন ২০২৬ শনিবার ভোররাতে যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) একটি বিশেষ চৌকস টহল দল এই ঝটিকা ও সফল অভিযান পরিচালনা করে।
আজ দুপুরে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) সদর দপ্তরে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ প্রেস ব্রিফিংয়ে ব্যাটালিয়নের পরিচালক ও অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান এই বিশাল সাফল্যের বিবরণ তুলে ধরেন।
বিজিবির প্রেস ব্রিফিং ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ শনিবার রাত আনুমানিক দুইটার সময় যশোর-নড়াইল মহাসড়কে অবস্থিত যশোর ব্যাটালিয়নের ১নং গেইটের সামনে বিজিবির একটি বিশেষ আভিযানিক টহল দল ওত পেতে থাকে। এ সময় নড়াইল থেকে যশোরগামী একটি সন্দেহভাজন প্রাইভেট কারকে থামানোর সংকেত দেয় বিজিবি। গাড়িটি থামিয়ে বিজিবি সদস্যরা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি চালালে গাড়ির ভেতরে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা ৩১টি খাঁটি স্বর্ণের বার উদ্ধার করতে সক্ষম হন। উদ্ধারকৃত এই স্বর্ণের মোট ওজন ৩ কেজি ৬৪১ গ্রাম, যার বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭ কোটি ১৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। পরবর্তীতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) যশোর শাখার কর্মকর্তাদের ডেকে এনে আধুনিক মেশিনে পরীক্ষার মাধ্যমে স্বর্ণের বারগুলো শতভাগ খাঁটি সোনা বলে নিশ্চিত করা হয়।
অভিযানে স্বর্ণের পাশাপাশি চোরাচালানের কাজে ব্যবহৃত ৫৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি প্রাইভেট কার, ৩৬ হাজার টাকা মূল্যের ৩টি আধুনিক মোবাইল ফোন এবং চোরাকারবারিদের হেফাজত থেকে নগদ ৪ হাজার ৮১৫ টাকা অর্থ জব্দ করা হয়। সব মিলিয়ে বিজিবির জব্দকৃত মোট মালামাল ও সম্পদের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ কোটি ৬৮ লাখ ৩৬ হাজার ২১০ টাকা।
স্বর্ণসহ আটককৃত দুই চোরাকারবারি হলেন— নড়াইল জেলার নড়াগাতি থানার খাসিআল গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের ছেলে খন্দকার মাহাবুবুল হক (৪৫) এবং যশোর সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ভেকুটিয়া গ্রামের সানু মিয়ার ছেলে মো: আনিস (৩৬)।
বিজিবির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক আসামিরা চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে জানায়, তারা ঢাকার ধোলাইপাড় এলাকার একটি বড় চোরাচালান সিন্ডিকেটের কাছ থেকে এই স্বর্ণের বারগুলো সংগ্রহ করেছিল। এরপর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে যশোরের ওপর দিয়ে বেনাপোল স্থলবন্দর এলাকা পার করে এই বিপুল পরিমাণ সোনা অবৈধভাবে ভারতে পাচারের একটি সুদূরপ্রসারী ও নিখুঁত পরিকল্পনা করেছিল তারা। কিন্তু সীমান্তে পৌঁছানোর আগেই বিজিবির জালে আটকা পড়ে এই সিন্ডিকেট।
৪৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, আটককৃত আসামিদের বিরুদ্ধে চোরাচালান বিরোধী আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের পর তাদের যশোর কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হচ্ছে। একই সাথে জব্দকৃত কোটি কোটি টাকার স্বর্ণের বার ও অন্যান্য আলামত রাষ্ট্রীয় নিয়মানুযায়ী যশোর জেলা ট্রেজারিতে জমা দেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে দ্রুততার সাথে চলমান রয়েছে। সীমান্তে চোরাচালান ও দেশের অর্থনৈতিক অপরাধ দমনে বিজিবির এমন কঠোর ও গোয়েন্দানির্ভর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। ছবি সংগৃহীত।

