যশোরে কথিত সাংবাদিক নীরবের কীর্তি ফাঁস

যশোরে কথিত সাংবাদিক নীরবের কীর্তি ফাঁস

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোরের কথিত সাংবাদিক শামসুর রহমান নীরবের বিরুদ্ধে এবার ব্ল্যাকমেইল, প্রতারণা ও সাংবাদিকতার আড়ালে নিজের স্ত্রীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। গতকাল বুধবার (১০ জুন ২০২৬) ভুক্তভোগী স্ত্রী নিজে বাদী হয়ে স্বামী শামসুর রহমান নীরবসহ দেশের ৪টি অনলাইন পত্রিকার অজ্ঞাতনামা সম্পাদককে আসামি করে যশোর আদালতে এই মামলা দায়ের করেন।

বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার প্রধান আসামি শামসুর রহমান নীরব যশোর সদর উপজেলার ডহরপাড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। মামলার অপর আসামিরা হলেন— অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘দৈনিক চুয়াডাঙ্গা’, ‘দৈনিক ভোরের হাওয়া’, ‘দৈনিক প্রতিদিনের কণ্ঠ’ এবং ‘দৈনিক বাংলার চেতনা’-এর সম্পাদকবৃন্দ। তবে মামলায় সম্পাদকদের ব্যক্তিগত নাম উল্লেখ না করে পদবি উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বাদী যশোরের ল্যাবএইড ক্লিনিকের নারী কর্মী ফাতেমা বেগম উল্লেখ করেন, বিগত ২০২২ সালে শামসুর রহমান নীরব নানা কৌশলে ও প্রতারণার মাধ্যমে তাঁকে জিম্মি করে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই নীরব তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ হাতিয়ে নেন। পরবর্তীতে ফাতেমা বেগম টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নীরব ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদপত্রে নানা ধরনের কুৎসা রটিয়ে মানহানি করার হুমকি দিতে থাকেন।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ফাতেমা বেগমের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে কুচক্রী নীরব গত ২২ মে (২০২৬) অনলাইন পত্রিকা ‘দৈনিক চুয়াডাঙ্গা’, ‘দৈনিক ভোরের হাওয়া’ ও ‘দৈনিক বাংলার চেতনা’-তে এবং ২৪ মে ‘দৈনিক প্রতিদিনের কণ্ঠ’-এ “যশোর ল্যাবএইডের বহুমুখী প্রতারক ফাতিমা ও তার গ্যাং বেপরোয়া” শিরোনামে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশ করান। ওই সংবাদগুলোর মাধ্যমে বাদীর ব্যক্তিগত ও পেশাগত সম্মান চরমভাবে ক্ষুণ্ন ও অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুতই ঘটনার তদন্ত শুরু হবে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *