স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
বর্ষা মৌসুমের শুরুতে ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলা এবং এডিস মশার বিস্তার রোধে বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি যশোর ইউনিটের উদ্যোগে এক বিশেষ ডেঙ্গু সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (১০ জুন ২০২৬) সকাল সাড়ে ১১টায় যশোর রেডক্রিসেন্ট ইউনিট কার্যালয়ে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন যশোরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আশেক হাসান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, “এডিস মশার লার্ভা থেকেই মূলত ডেঙ্গু রোগ ছড়ায় এবং যেকোনো জায়গায় জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এই মশার জন্ম হয়। ডেঙ্গুর প্রাণঘাতী ছোবল থেকে বাঁচতে আমাদের সবার আগে নিজ নিজ বাড়ির আঙিনা ও চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। ডাবের খোসা, টব বা কোনো খালি পাত্রে কোনো অবস্থাতেই পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের দেশে সচেতনতার মাধ্যমে যদি অন্তত ১ লাখ মানুষকে ডেঙ্গু সংক্রমণ থেকে রক্ষা করা যায়, তবে চিকিৎসার পেছনে অপচয় হওয়া রাষ্ট্রের অনেক টাকা বাঁচানো সম্ভব। আশা করি, যশোরের সাধারণ মানুষ পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখবেন এবং সবাই মিলে আমরা যশোরকে একটি ডেঙ্গুমুক্ত নিরাপদ জেলা হিসেবে গড়ে তুলবো।”
রেডক্রিসেন্ট যশোর ইউনিটের সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকনের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যশোরের সিভিল সার্জন ডাক্তার মাসুদ রানা। ডেঙ্গুর চিকিৎসাগত দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, “ডেঙ্গু এখন আমাদের কাছে একটি পরিচিত রোগ। বাংলাদেশে সাধারণত প্রতি বছর এপ্রিল থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত মানুষ ডেঙ্গুতে বেশি আক্রান্ত হয়। খালি পাত্রে টানা তিন দিন পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশা ডিম পাড়ে।”
সিভিল সার্জন আরও বলেন, “কারো জ্বর হলে তা সাধারণ জ্বর ভেবে অবহেলা করা যাবে না, দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে হবে। ডেঙ্গু পজিটিভ হলে রোগীর রক্তচাপ (প্রেসার) কমে যায় এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ফলে চামড়ায় রক্তজনিত লাল দাগ দেখা দিতে পারে।” কখন হাসপাতালে নেবেন? ডাক্তার মাসুদ রানা ডেঙ্গু রোগীদের পরিচর্যা বিষয়ে বিশেষ পরামর্শ দিয়ে বলেন— ডেঙ্গু আক্রান্ত সাধারণ রোগীরা বাড়িতেই চিকিৎসকের পরামর্শে থাকবেন। তবে যদি কোনো ডেঙ্গু রোগী হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন কিংবা তাঁর ঘন ঘন বমি হতে থাকে, তবে বিন্দুমাত্র দেরি না করে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। ডেঙ্গু রোগীকে সবসময় নিবিড় তদারকিতে রাখতে হবে, যাতে কোনো অবস্থাতেই রোগী মাথা ঘুরে পড়ে না যান। নিজেকে বাঁচানোর পাশাপাশি প্রতিবেশীদেরও সচেতন করার আহ্বান জানান তিনি।
উক্ত সেমিনারটি অত্যন্ত চমৎকারভাবে পরিচালনা করেন যশোর রেডক্রিসেন্ট ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান টুকুন। অনুষ্ঠানে রেডক্রিসেন্টের কর্মকর্তা, যুব রেডক্রিসেন্টের ভলান্টিয়ার, স্বাস্থ্যকর্মী এবং স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ছবি সংগৃহীত।

