বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী):
২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে এক তুমুল উন্মাদনা। সাধারণ মানুষ ও ফুটবলবোদ্ধারা যখন দলগুলোর অতীত পরিসংখ্যান আর বর্তমান পারফরম্যান্স নিয়ে হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত, ঠিক তখনই প্রচলিত সব গাণিতিক ধারণাকে পাশ কাটিয়ে এক রোমাঞ্চকর ভবিষ্যৎবাণী নিয়ে হাজির হয়েছেন দেশবরেণ্য জ্যোতিষী আবদুস ছালাম শিকদার। তাঁর গণনা অনুযায়ী— কোটি ভক্তের বুকভাঙ্গা কান্না আর মাঠের রক্তক্ষয়ী লড়াই শেষে এবার সব নামী-দামী দলকে বিদায় করে ফুটবলের সোনালী ট্রফি ছিনিয়ে নেবে ফরাসিরা; বিশ্ববিজেতার মুকুট মাথায় পরবে ফ্রান্স।
মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) বিকেল ৫টায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এই চাঞ্চল্যকর পূর্বাভাস দেন, যা ইতিমধ্যেই নেটদুনিয়ায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। উল্লেখ্য, এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়া এবং ইরান-ইসরাইল-আমেরিকার যুদ্ধ নিয়ে এই জ্যোতিষীর করা ভবিষ্যৎবাণীগুলো অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রমাণিত হয়েছিল।
জ্যোতিষী আবদুস ছালাম শিকদারের ফেসবুক পোস্টের বিবরণ অনুযায়ী, এবারের টুর্নামেন্টে বিশ্ববাসী এমন কিছু অবিশ্বাস্য অঘটন আর চরম ট্র্যাজেডি দেখবে, যা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। কোটি ভক্তের প্রার্থনা সত্ত্বেও বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপের পরাশক্তি স্পেনকে বিদায় নিতে হবে সেমিফাইনালের মঞ্চ থেকেই। অন্যদিকে, লাতিন আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের সূর্যখ্যাত ব্রাজিল এবার ফাইনালের ঠিক আগের মুহূর্তে এসে ফুটবলের আকাশ থেকে অস্তমিত হবে।
আগামী ১৯ জুলাই নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সেই ঐতিহাসিক ফাইনালে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পরাশক্তি ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্স। একদিকে থাকবে দীর্ঘদিনের শিরোপার খরা কাটিয়ে বিশ্বজয়ে মরিয়া ইংলিশরা, আর অন্যদিকে থাকবে অপ্রতিরোধ্য শক্তির ফরাসিরা। কিন্তু ট্রফি ছোঁয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে, এক অদৃশ্য দেওয়ালে ধাক্কা খাবে ইংল্যান্ডের সব স্বপ্ন। এক বুক দীর্ঘশ্বাস আর বীরোচিত পরাজয় সঙ্গী করে রানার আপের মর্যাদা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে ইংলিশদের। কারণ, ১৯ জুলাইয়ের সেই মাহেন্দ্রক্ষণে এক অনন্য জাদুকরী আশীর্বাদ বর্ষিত হবে ফরাসিদের ওপর এবং ইংল্যান্ডের দর্প চূর্ণ করে চ্যাম্পিয়ন হবে ফ্রান্স।
যাঁরা সমসাময়িক খবরের কাগজের বিশ্লেষণ বা গাণিতিক পরিসংখ্যানের বাইরে গিয়েও বাস্তব সত্যকে আগেভাগেই অনুধাবন করতে ভালোবাসেন, এই বার্তাটি মূলত তাঁদের কৌতূহল নিবৃত্তির জন্য বলে জানান এই জ্যোতিষী। তিনি বলেন, “ফুটবল মাঠে বল গড়ানোর পর প্রতিটি মুহূর্তের ঘটনাপ্রবাহ যখন এই পূর্বাভাসের সাথে মিলতে শুরু করবে, তখন সংশয়বাদীদের সমস্ত যুক্তিই ম্লান হয়ে যাবে। ১৯শে জুলাইয়ের ঐতিহাসিক ফাইনাল ম্যাচ শেষে এই প্রতিটি শব্দের বস্তুনিষ্ঠতা ও সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সবাইকে আমি অগ্রিম আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখলাম।”
এই ভবিষ্যৎবাণীর বিষয়ে জ্যোতিষী মো. আবদুছ ছালাম শিকদার এই প্রতিবেদককে বলেন, “আমি প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে নিবিড় প্রচেষ্টার পর গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান বিশ্লেষণ করে এই প্রেডিকশনটি সম্পন্ন করেছি। আল্লাহর রহমতে এর আগেও আমার বিভিন্ন বৈশ্বিক প্রেডিকশন সফল হয়েছিল। আমি ২০১৪ সালে ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ অ্যাস্ট্রোলজি’ থেকে জ্যোতিষ শাস্ত্রে ডিগ্রি অর্জন করেছি। মূলত মানুষের উৎসাহের কারণেই আমি এই গণনাগুলো করি।” ফাইল ছবি সংগৃহীত।


