ক্ষমতাধর সিনিয়র অফিসার!

ক্ষমতাধর সিনিয়র অফিসার!

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

“ব্যবহারেই বংশের পরিচয়”— প্রবাদটি যেন সম্পূর্ণ উল্টো পিঠে রূপ নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি-এর যশোরের মাইকপট্টি শাখায়। এই শাখার নবযোগদানকৃত সিনিয়র অফিসার নাজনীন সুলতানার বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানি, সহকর্মীদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার এবং ব্যাংকিং চেইন অব কমান্ড লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাব ও পারিবারিক পরিচয়ের দাপট দেখিয়ে তিনি ব্যাংকের ভেতর একচ্ছত্র ক্ষমতার বলয় তৈরি করেছেন, যার কারণে প্রতিনিয়ত রাষ্ট্রীয় এই ব্যাংকটির সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

ভুক্তভোগী গ্রাহক ও ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মাইক পট্টি শাখায় যোগদান করার পর থেকেই সিনিয়র অফিসার নাজনীন সুলতানার আচরণ নিয়ে ক্ষোভের দানা বাঁধছে। ব্যাংকে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে গ্রাম থেকে আসা সাধারণ নারীদের সাথে তিনি অত্যন্ত অবমাননাকর ও খিটখিটে মেজাজে আচরণ করেন। তাঁর টেবিলের সামনে আসা গ্রাহকদের সাথে তিনি এমন ভাবসাব দেখান যেন সবাই তাঁর কাছে বাধ্য। ব্যাংকের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, শুধু সাধারণ কাস্টমারই নন, নিজের সহকর্মীদের সাথেও তিনি প্রায়শই অপেশাদার ও উদ্ধত আচরণ করে থাকেন। সেবাগ্রহীতাদের একাংশের মতে, “তাঁর আচরণ ও ভাবসাব দেখলে মনে হয় তিনি নিজেই এই ব্যাংকের এমডি (ব্যবস্থাপক পরিচালক)।”

আজ বুধবার (১০ জুন ২০২৬) এই প্রতিবেদকের উপস্থিতিতেই নাজনীন সুলতানার ডেস্কে একাউন্ট (হিসাব) খুলতে আসেন গ্রাম থেকে আসা এক সাধারণ নারী। এ সময় কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই ওই নারীর সাথে অত্যন্ত হয়রানিমূলক ও রুঢ় আচরণ করেন নাজনীন সুলতানা। এতে ওই নারী ব্যাংকের ভেতরেই চরম বিব্রতকর ও অবদমিত পরিস্থিতির শিকার হন।

বিষয়টি নিয়ে ঘটনাস্থলেই এই প্রতিবেদক নাজনীন সুলতানার সাথে কথা বললে, তিনি বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত না হয়ে উল্টো চরম দাম্ভিকতা প্রদর্শন করেন। নিজের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, “যেকোনো সমস্যা হলে ব্যাংকসহ যে কোন স্থানের সমস্যা জানাবেন, দেখবেন মুহূর্তেই সমাধান হয়ে গেছে।”

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নাজনীন সুলতানা যশোরের সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ আবুল হোসেনের মেয়ে। নিজের পৈত্রিক পরিচয় এবং নিজের বাড়ি যশোর শহরে হওয়ার সুবাদে তিনি ব্যাংকের ভেতর অতিরিক্ত প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কোনো নির্দেশনা বা প্রাতিষ্ঠানিক চেইন অব কমান্ডের তোয়াক্কা করেন না তিনি। সংশ্লিষ্টদের মনে প্রশ্ন— কোন ‘অদৃশ্য শক্তির’ ইশারায় এবং কার তদবিরে তিনি নিয়ম ভেঙে নিজের বাড়ির এত কাছের শাখায় পোস্টিং (যোগদান) পেয়েছেন?

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একজন ব্যাংক কর্মকর্তার এমন দাম্ভিক ও আঞ্চলিক প্রভাব খাটানোর মানসিকতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এভাবে চলতে থাকলে সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের ওপর আস্থা হারাবে এবং অগ্রণী ব্যাংকের শত বছরের সুনাম ধূলিসাৎ হবে।

এই চরম অব্যবস্থাপনা ও দুর্ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে অগ্রণী ব্যাংক মাইকপট্টি শাখার ব্যবস্থাপক মেহেদী হাসানকে মৌখিকভাবে তীব্র অসন্তোষের সাথে অবহিত করা হয়েছে। শাখা ব্যবস্থাপক বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা অবিলম্বে এই ‘ক্ষমতাধর’ সিনিয়র অফিসারের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ও বিভাগীয় শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *