স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
আবাসন খাতের সুশৃঙ্খল উন্নয়নের দায়িত্বে থাকা যশোর হাউজিং এস্টেটের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইমাদুল ইসলাম তুহিনের বিরুদ্ধে এবার পবিত্র ঈদগাহ ময়দানের জমি দখল ও প্লট বাণিজ্যের এক মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। উপশহর ঈদগাহ ময়দানের সীমানা প্রাচীরের একাংশ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ায় পুরো এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের তীব্র প্রতিরোধের মুখে গতকাল বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেলেও পুরো উপশহর জুড়ে এখন থমথমে পরিস্থিতি।
সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপশহর ঈদগাহ ময়দানের চারপাশের সীমানা প্রাচীরটি দীর্ঘদিন ধরে অক্ষত ছিল। কিন্তু গতকাল সকালে যশোর হাউজিংয়ের বিতর্কিত প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইমাদুল ইসলাম তুহিন আকস্মিকভাবে একটি বুলডোজার নিয়ে ঈদগাহ প্রাঙ্গণে হাজির হন। রাস্তার দোহাই দিয়ে পবিত্র এই জায়গার সীমানা প্রাচীরের একটি বড় অংশ নির্মমভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাস্তা বড় করা বাহানা মাত্র; মূল লক্ষ্য হলো ঈদগাহের পবিত্র জমি ও এর সংলগ্ন ‘শাপলা কিন্ডারগার্টেন স্কুল’ পর্যন্ত বিস্তৃত পুরো জোনটি দখল করা। ইতিমধ্যে শাপলা কিন্ডারগার্টেন স্কুলটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তুহিনের মূল মাস্টারপ্ল্যান হলো—স্কুল ও ঈদগাহের এই বিপুল পরিমাণ জমি দখল করে সেখানে দুটি ভিআইপি কমার্শিয়াল প্লট তৈরি করা এবং পরবর্তীতে তা চড়া দামে বিক্রি করে দেওয়া। গতকাল সকালে প্রাচীর ভাঙার খবর পেয়ে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এসে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুললে তুহিন ও তাঁর আজ্ঞাবহ বাহিনী বুলডোজার নিয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইমাদুল ইসলাম তুহিনের দুর্নীতির খতিয়ান দীর্ঘ। সম্প্রতি উপশহরে ‘উচ্ছেদের’ নামে তিনি কয়েক কোটি টাকার গোপন বাণিজ্য করেছেন বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। সূত্র জানায়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবৈধভাবে ‘ম্যানেজ’ করে নিজের পদ টিকিয়ে রাখতে এবং লবিংয়ের পেছনে খরচ করা বিপুল অংকের টাকা একচেটিয়া তুলতে তিনি এখন বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।
তুহিনের এই টাকার নেশার কারণে উপশহরের অনেক সাধারণ প্লট গ্রহীতা আজ পথে বসেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি অত্যন্ত চতুরতার সাথে ‘অফিশিয়াল সিস্টেমেটিক কায়দায়’ এই জালিয়াতি চক্র চালাচ্ছেন। যারা তাঁকে মোটা অংকের ঘুষ বা টাকা দিতে পেরেছেন, কেবল তাদের নামেই প্লট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আর যারা দাবি করা টাকা দিতে পারেননি, তাদের বৈধ প্লটগুলো নানা অজুহাতে বাতিল (ক্যান্সেল) করে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে লোকদেখানো ‘লটারি’র নাটক সাজিয়ে নতুন গ্রাহকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে সেসব প্লট পুনর্বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি বরাদ্দকৃত প্লটের দখল বুঝিয়ে দেওয়ার নাম করেও গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
পবিত্র ঈদগাহের প্রাচীর ভাঙা এবং কোটি কোটি টাকার প্লট বাণিজ্যের এই ঘটনা ফাঁসের পর উপশহরের সচেতন নাগরিক, মুসল্লি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “যিনি আবাসন রক্ষা করবেন, তিনিই আজ জল্লাদের মতো পবিত্র ঈদগাহ আর শিশুদের স্কুল ভাঙতে বুলডোজার নিয়ে এসেছেন। তুহিনের এই দুর্নীতির সাম্রাজ্য এখনই গুঁড়িয়ে না দিলে উপশহরের সমস্ত সরকারি সম্পত্তি বিলীন হয়ে যাবে।”
এই বিষয়ে অভিযুক্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইমাদুল ইসলাম তুহিনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তর মেলেনি।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার অপসারণসহ পবিত্র ঈদগাহের জমি সুরক্ষায় এবং হাউজিংয়ের প্লট বাণিজ্যের সুষ্ঠু তদন্তে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।ছবি সংগৃহীত।


