অর্ধগলিত ৫৮ ফুটের মৃত তিমি ভেসে এলো কুয়াকাটায়

অর্ধগলিত ৫৮ ফুটের মৃত তিমি ভেসে এলো কুয়াকাটায়

বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া :

আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে পৃথিবীর অন্যতম বিশালাকৃতির ও বিরল প্রজাতির একটি মৃত তিমি ভেসে এসেছে, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৮ ফুট। আজ বুধবার (৩ জুন, ২০২৬) দুপুর আনুমানিক দুইটার দিকে কুয়াকাটা সৈকতের পূর্ব পাশে অবস্থিত দৃষ্টিনন্দন ঝাউ বাগান সংলগ্ন সমুদ্র উপকূলে এই বিশাল বেলিন প্রজাতির মৃত তিমিটি জোয়ারের স্রোতে ভেসে আসে।

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা ও মৎস্যজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত দীর্ঘ দুই যুগের (২৪ বছর) মধ্যে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের বুকে ভেসে আসা যেকোনো তিমির চেয়ে আকৃতি এবং দৈর্ঘ্যের দিক থেকে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ও দানবীয় তিমি। এর আগে আজ সকালের দিকে কুয়াকাটা মূল ভূখণ্ড থেকে বঙ্গোপসাগরের ভেতরের দিকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার গভীর সাগরে এই বিশালাকৃতির মৃত তিমিটিকে ভাসমান অবস্থায় প্রথম দেখতে পান স্থানীয় জেলেরা। খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন কুয়াকাটা (উপরা)-এর পরিবেশবাদী সদস্যরা গভীর সাগরে গিয়ে তিমিটি উদ্ধারের প্রাথমিক চেষ্টা চালান। তবে তিমিটির দেহ সম্পূর্ণ অর্ধগলিত এবং মারাত্মক দুর্গন্ধযুক্ত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সাগর থেকে তা টেনে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে দুপুরের দিকে সাগরের তীব্র জোয়ার ও ঢেউয়ের টানে তিমিটি নিজে থেকেই কুয়াকাটার ঝাউ বাগান পয়েন্টের তীরে এসে আটকা পড়ে।

কুয়াকাটার উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের (উপরা) সম্মানিত আহ্বায়ক বাচ্চু খলিফা ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকে জানান, তিমির শরীরের চামড়া ও মাংসের বর্তমান গলিত অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে, অন্তত এক সপ্তাহ পূর্বে কোনো কারণে গভীর সাগরে তিমিটির মৃত্যু হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে সাগরের এই বিশালাকৃতির স্তন্যপায়ী প্রাণীটির অকাল মৃত্যু ঘটল, তা এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। গভীর সাগরে একের পর এক তিমি ও ডলফিনের এমন মৃত্যু আমাদের সামুদ্রিক পরিবেশ ও সামগ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য একটি চরম অশনি সংকেত বলে তিনি তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সাথে মৃত এই বিশালাকৃতির তিমির মহামূল্যবান কঙ্কালটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও পর্যটকদের প্রদর্শনের জন্য রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় দ্রুত সংরক্ষণের জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে সমুদ্র সৈকতে বিশাল তিমি ভেসে আসার খবর পেয়ে মহিপুর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে স্থানীয় বিট কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে। তিমির বর্তমান সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি এবং পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিস্তারিত অবহিত করা হয়েছে এবং তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুতই এটিকে বালুচাপা দেওয়া বা কঙ্কাল উদ্ধারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তিমিটি দেখতে বিকেল থেকেই সৈকতে শত শত পর্যটক ও স্থানীয় উৎসুক সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *