স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল বিশেষ তৎপরতা চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় চোরাচালানী মালামালসহ এক চোরাকারবারিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। আজ শুক্রবার (২২ মে) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)-এর অধীনস্থ বেনাপোল বিওপি, বেনাপোল আইসিপি এবং আমড়াখালী চেকপোস্টের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় পৃথক ও সমন্বিত চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে এই বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় পণ্যসামগ্রী জব্দ করা হয়। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, আটককৃত এই বিশাল অবৈধ চালানের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৫ লক্ষ ৯৫ হাজার ৪৫ টাকা।
যশোর ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সুনির্দিষ্ট ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ দিনভর সীমান্তের কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে বিজিবির টহল দল ও চেকপোস্টের জোয়ানরা অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। এ সময় ভারত থেকে অবৈধ উপায়ে সীমান্ত গলিয়ে দেশে নিয়ে আসা মোট ৭৫টি আকর্ষণীয় ভারতীয় শাড়ী, ১টি উন্নত মানের কম্বল, ১৩ কেজি সুগন্ধি জিরা, ৯৯ কেজি ফুসকা, ১৫.৫ কেজি কিসমিস, ১৫ প্যাকেট সন পাপড়ী, ১০৮টি প্রক্রিয়াজাত খাদ্য সামগ্রী, ৪৫টি আমের চাটনী, ৪ হাজার ১৮৭টি চকলেট এবং ২ হাজার ২১২টি বিভিন্ন ব্রান্ডের নামী-দামী কসমেটিক্স সামগ্রী জব্দ করা হয়। এসব মালামাল অবৈধভাবে পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে এক আসামিকে আটক করা হয়েছে, যার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সীমান্তে এই সফল ও ধারাবাহিক অভিযানের বিষয়ে যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) অত্যন্ত দক্ষ অধিনায়ক লেঃ কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান (পিএসসি) সংবাদমাধ্যমকে জানান, দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতিসাধনকারী মাদকদ্রব্য, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালানী মালামালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় পাচার চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে সীমান্ত জুড়ে বিজিবি’র বিশেষ কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবেই সীমান্ত এলাকায় দিন-রাত সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা তৎপরতা এবং আধুনিক আভিযানিক কার্যক্রম জোরদার রাখা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় যশোর ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়মিত টহল ও আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করে প্রায় প্রতিদিনই বিপুল পরিমাণ মাদক ও চোরাচালানের অবৈধ পণ্য জব্দ করা সম্ভব হচ্ছে। বিজিবি অধিনায়ক আরও স্পষ্ট করে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় এবং চোরাচালান সম্পূর্ণ নির্মূল করতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের এই ধরনের কঠোর ও আপসহীন আভিযানিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও সবসময় অব্যাহত থাকবে। জব্দকৃত মালামাল কাস্টমস গুদামে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ছবি সংগৃহীত।

