স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রতিপক্ষকে হেয় করার উদ্দেশ্যে গুজব ও অপতথ্য ছড়ানোর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সমাজে নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণেই এ ধরনের অপপ্রচারের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই ২০২৬) সকালে যশোর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে কালেক্টরেট ভবনের ‘অমিত্রাক্ষর’ সভাকক্ষে ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধ’ শীর্ষক এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার হার বাড়লেও নৈতিক মূল্যবোধে এক ধরনের ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অতীতে শিক্ষার সুযোগ সীমিত থাকলেও মানুষের নীতি-নৈতিকতা ছিল সুদৃঢ়। কেবল ভৌত উন্নয়ন দিয়ে একটি সুস্থ সমাজ গড়া সম্ভব নয়; সেজন্য শিক্ষার্থীদের পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় দীক্ষিত করতে হবে। একই সাথে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মিথ্যাচার রুখতে সমাজের সচেতন ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গকে নিজ নিজ জায়গা থেকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।”
যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন,সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার, যশোর,অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সভাপতি, যশোর জেলা বিএনপি,দেলোয়ার হোসেন খোকন, সাধারণ সম্পাদক, যশোর জেলা বিএনপি ও প্রশাসক, জেলা পরিষদ।
এছাড়াও সভায় গুজব প্রতিরোধে কারিগরি ও সামাজিক পদক্ষেপ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন এনএসআই-এর যুগ্ম পরিচালক আবু তাহের মো. পারভেজ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ, পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সাব-ইন্সপেক্টর অলক কুমার দে, যশোর জেলা ইমাম পরিষদের সভাপতি মাওলানা আব্দুল মান্নান, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র সাইদ সান।
সভায় উপস্থিত বক্তারা সর্বসম্মতিক্রমে মত প্রকাশ করেন যে, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কঠোর তদারকির পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।ছবি সংগৃহীত।

