আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বাংলাদেশ সীমান্তে কথিত অনুপ্রবেশ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রুখতে এক অভিনব ও বিতর্কিত পরিকল্পনা বিবেচনা করছে ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব নয় এমন নদীপথ ও অরক্ষিত এলাকায় সাপ এবং কুমিরের মতো সরীসৃপ মোতায়েনের সম্ভাব্যতা যাচাই করছে তারা। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’ ও আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা ‘এএফপি’ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কলকাতায় অবস্থিত বিএসএফ-এর ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) মনোজ বার্নওয়াল জানান, গত ফেব্রুয়ারিতে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এক বৈঠকে এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। মূলত ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশনার সঙ্গে সংগতি রেখে এই ‘প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধক’ ব্যবহারের বিষয়টি যাচাই করতে বলা হয়েছে। ২৬ মার্চ বিএসএফ সদর দপ্তর থেকে সীমান্তের সকল ফিল্ড ইউনিটে এ সংক্রান্ত একটি বার্তা পাঠানো হয়।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার সীমান্তের বড় একটি অংশ নদীমাতৃক ও বদ্বীপ অঞ্চল। ভৌগোলিক কারণে এসব জায়গায় প্রথাগত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা অত্যন্ত কঠিন। বিএসএফ-এর মতে বন্যাপ্রবণ এবং উন্মুক্ত নদী সীমান্তে সরীসৃপ মোতায়েন করলে তা অনুপ্রবেশকারীদের জন্য প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করবে। এটি প্রথাগত নজরদারির পাশাপাশি একটি ‘উদ্ভাবনী’ নিরাপত্তা স্তর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পরিকল্পনাটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে খোদ বিএসএফ কর্মকর্তাদের মধ্যেই সংশয় রয়েছে। ডিআইজি বার্নওয়াল কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন: ১. সংগ্রহ ও রক্ষণাবেক্ষণ: এত বিপুল সংখ্যক সাপ বা কুমির কীভাবে সংগ্রহ ও নিয়ন্ত্রণ করা হবে? ২. জননিরাপত্তা: সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলো ঘনবসতিপূর্ণ। বন্যার সময় এই সরীসৃপগুলো লোকালয়ে ঢুকে পড়লে সীমান্তের উভয় পাশের সাধারণ মানুষের জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।
ভারতের সংসদীয় কমিটির তথ্যমতে, বাংলাদেশ সীমান্তের প্রায় ৩৭১ কিলোমিটার এলাকা এখনও বেড়া বিহীন। ২০২৪ সালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভারত সীমান্তে কড়াকড়ি বাড়িয়েছে এবং শত শত কিলোমিটার জুড়ে নতুন বেড়া নির্মাণ করছে। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘ দিন ধরে সীমান্তে বিএসএফ-এর কঠোর অবস্থানের সমালোচনা করে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে বরফ গলতে শুরু করলেও ভারতের এমন বিতর্কিত পরিকল্পনা সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা বা উদ্বেগের সৃষ্টি করতে পারে।
তথ্যসূত্র: দ্য হিন্দু, ডেইলি সাবাহ ও এএফপি।
এআই দিয়ে তৈরি প্রতীকি ছবি


