স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
নাটোরের লালপুর উপজেলার জয় কৃষ্ণপুর গ্রামে এক লালন ভক্ত স্বামী-স্ত্রীর ‘জিন্দা কবর’ নেওয়ার ঘোষণা ঘিরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এলাকায় ‘সিদ্ধি খালেক বাবা’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির এই আজব ঘোষণা শুনে হাজার হাজার উৎসুক জনতা ও ভক্ত সেখানে ভিড় জমায়। শেষ পর্যন্ত খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এই নাটকীয় ঘটনার অবসান ঘটায়।
স্থানীয়দের দাবি, খালেক ডাকাত ওরফে খালেক ফকির একসময় অপরাধ জগতের সাথে জড়িত থাকলেও পরবর্তীতে নিজেকে আধ্যাত্মিক সাধক হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। এলাকার একটি মাজার দেখাশোনার পাশাপাশি তিনি নিয়মিত ‘সিদ্ধি আসর’ (গাঁজা সেবন) বসাতেন। সম্প্রতি তিনি ঘোষণা করেন, আধ্যাত্মিক সাধনার অংশ হিসেবে তিনি তার প্রথম স্ত্রীকে নিয়ে আড়াই দিন মাটির নিচে কবরে অবস্থান করবেন।
এই ‘জিন্দা কবর’ উৎসবকে ঘিরে খালেক ফকিরের বাড়িতে এলাহি কাণ্ড শুরু হয়। বুধবার থেকেই শত শত ভক্তের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে জয় কৃষ্ণপুর গ্রাম। ভক্তদের জন্য এক মণ দুধের পায়েস ও মাছ-ভাতের ভূরিভোজের আয়োজন করা হয়। এমনকি খালেক ফকির নিজে দেড় মণ দুধ দিয়ে গোসল করে কাফনের কাপড় পরে কবরে যাওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে যখন এই দম্পতির কবরে ঢোকার কথা, তখনই জনসমুদ্রের খবর পেয়ে হাজির হয় লালপুর থানা পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতিতে তাদের এই ‘আধ্যাত্মিক পরিকল্পনা’ ভেস্তে যায়।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ সেখানে অবস্থান নেয়। তবে সেখানে খনন করা কোনো কবরের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। মূলত লালন অনুসারী হিসেবে পরিচিত খালেক ফকিরের এই পাগলামি ঘিরে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে ব্যাপারে পুলিশ সজাগ রয়েছে।
ছবি-সংগৃহীত


