স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
হাতে তখনো বিয়ের মেহেদীর রঙ হয়তো হালকা হয়ে আসেনি। পরনে ছিল সুন্দর পোশাক, চোখেমুখে ছিল বাইরে ঘুরতে যাওয়ার আনন্দ। কিন্তু এক নিমেষের অভিমান সব আলো কেড়ে নিল। যশোর শহরের শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ এলাকায় বিয়ের মাত্র ৩০ দিনের মাথায় ফাতেমা নামের এক নববধূর রহস্যময় বিদায় স্তব্ধ করে দিয়েছে গোটা এলাকা।
সোমবার বিকেলে ফাতেমা খুব যত্ন করে সেজেছিলেন। মায়ের কাছে আবদার ছিল একটু বাইরে ঘুরতে যাওয়ার। মা তখন কাজে ব্যস্ত থাকায় বলেছিলেন, ‘পরে যাবো’। এই সামান্য ‘না’ টুকুই কি তবে সহ্য করতে পারলেন না অভিমানী এই তরুণী? মায়ের ওপর রাগ করে নিজের ঘরে ঢুকে দরজা আটকে দেন তিনি।
ঘরের ভেতরে তখন বাজছিল উচ্চস্বরে গান। বাড়ির লোক ভেবেছিল, মেয়ে হয়তো গান শুনে মন ভালো করছে। কিন্তু সেই গানের সুর যখন থামল, তখন সব শেষ। অনেক ডাকাডাকির পর সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে পরিবারের সদস্যরা যা দেখলেন, তা দেখার জন্য কেউ প্রস্তুত ছিল না। ঘরের সিলিংয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় ফাতেমাকে।
হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তার যখন তাকে মৃত ঘোষণা করেন, তখন চারদিকে কেবল কান্নার রোল। স্বজনরা জানান, শৈশবে ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে ফাতেমার মস্তিষ্কে যে চোট লেগেছিল, সেই থেকে তিনি কিছুটা মানসিক অস্থিরতায় ভুগতেন। কিন্তু বিয়ের এক মাসের মাথায় সেই পুরনো অসুখ আর ক্ষণিকের অভিমান মিলে যে এমন এক ট্র্যাজেডি তৈরি করবে, তা কল্পনাও করতে পারেনি কেউ।
শংকরপুরের আকাশ আজ মেঘলা না হলেও গোলপাতা মসজিদ এলাকায় বইছে শোকের বাতাস। সুন্দর করে সেজে থাকা মেয়েটি এভাবেই চিরদিনের জন্য ঘুমিয়ে পড়লেন না ফেরার দেশে। ছবি সংগৃহীত।


