স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষা কল্যাণ ট্রাস্টে ৫০ লাখ টাকা অনুদান দিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি (জিইবিটি) বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ মিজানুর রহমান ও তার সহধর্মিণী ফিরোজা পারভিন।
রোববার (১০ মে ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীরের কাছে ৫০ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করেন অধ্যাপক ড. শেখ মিজানুর রহমান ও তার সহধর্মিণী। তাদের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘প্রফেসর ড. শেখ মিজানুর রহমান ও ফিরোজা পারভিন শিক্ষা কল্যাণ ট্রাস্ট’ গঠনের লক্ষ্যে এ অনুদান প্রদান করা হয়।
জানা যায়, ট্রাস্ট ফান্ডের মূল অর্থ স্থায়ী আমানত হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে এবং সেই আমানত থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশের মাধ্যমে প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করা হবে।
চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. শেখ মিজানুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি শিক্ষা কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আন্তরিক সহযোগিতায় সেই ইচ্ছা আজ বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি বলেন, আর্থিক সংকটের কারণে যেন কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ব্যাহত না হয়, সেদিকে সবার নজর রাখা প্রয়োজন।
যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে কোনো শিক্ষকের ব্যক্তিগত অর্থায়নে শিক্ষা কল্যাণ ট্রাস্ট গঠনের এটি প্রথম ঘটনা। এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করবে এবং অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও গবেষণায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. শেখ মিজানুর রহমানের সহধর্মিণী ফিরোজা পারভিন, ডিনস কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. ইমরান খান, রেজিস্ট্রার মো. কাজী জালাল উদ্দীন এবং পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শিরীন নিগার। এ সময় বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও বিভাগের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, অধ্যাপক ড. শেখ মিজানুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে জিইবিটি বিভাগে শিক্ষকতা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছেন। বর্তমানে তিনি জীববিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ছবি সংগৃহীত।

