স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
পাবনার আতাইকুলায় এক শিশুর মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল আরও দীর্ঘ হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যুর পর এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ জনে। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই ২০২৬) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা থানার সড়াডাঙ্গী কড়ইতলা এলাকায় ঢাকা–পাবনা মহাসড়কে এই লোমহর্ষক দুর্ঘটনা ঘটে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া সাত বছর বয়সী শিশু নাফিসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাবনা থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর আজ বিকেল ৩টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত নাফিস সাঁথিয়া উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে। এর আগে, আজ সকাল ১১টার দিকে রাজশাহী নেওয়ার পথেই নাটোর এলাকায় পৌঁছালে ছলিম প্রামাণিক (৬৫) নামের আরও একজন মারা যান। তিনি সাঁথিয়া উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের মৃত দানেজ প্রামাণিকের ছেলে।
এর আগে আজ ভোরে দুর্ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ছলিম প্রামাণিকের স্ত্রী বুলু খাতুন (৫৭) এবং অ্যাম্বুলেন্স চালক রাজ শেখ (২৮)। চালক রাজ পাবনা পৌর শহরের উত্তর শালগাড়িয়া এলাকার জামাল শেখের ছেলে। এই নজিরবিহীন দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় সাঁথিয়া ও পাবনায় চরম শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সদ্য প্রয়াত শিশু কেয়া খাতুনের মরদেহ নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স সাঁথিয়া উপজেলার নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সটি আতাইকুলা থানার সড়াডাঙ্গীর কড়ইতলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগামী ‘পাবনা এক্সপ্রেস’ বাসের সঙ্গে সেটির মুখোমুখি প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়। বাসের ধাক্কায় অ্যাম্বুলেন্সটি মুহূর্তের মধ্যে দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই অ্যাম্বুলেন্সের চালক রাজ শেখ এবং মৃত শিশু কেয়ার নানি বুলু খাতুন নিহত হন। এ সময় আরও চারজন গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে মাধপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় জনতা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের লাশ উদ্ধার করার পাশাপাশি আহতদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় আহত ছলিম প্রামাণিকের মেয়ে নাজনিন খাতুন (৪০) ও নাতি রিয়াদ সরদার (১৭) বর্তমানে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মাধপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,”দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান চালায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজন মারা যাওয়ায় মোট নিহতের সংখ্যা ৪ জনে দাঁড়িয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও অ্যাম্বুলেন্সটি আমাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘাতক বাসের চালক ও সহযোগীকে আটকে তদন্ত চলছে এবং এই বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।” ছবি সংগৃহীত।


