অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ!

অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ!

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে অস্ত্র ও মোবাইল ক্যামেরার মুখে দলবদ্ধ ধর্ষণের (গণধর্ষণ) এক অত্যন্ত বর্বরোচিত ঘটনা ঘটেছে। এই পৈশাচিক ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষ। এর জেরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত দুই লম্পটের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।

গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভোররাতে উপজেলার আতাইকুলা থানার আর, আতাইকুলা ইউনিয়নের বিলকুলা গ্রামে এই লোমহর্ষক ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে। এর প্রতিবাদে বুধবার রাত ও আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল পর্যন্ত দফায় দফায় অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিলকুলা গ্রামের এক সৌদি আরব প্রবাসীর পরিবারের ওপর দীর্ঘদিন ধরে কুদৃষ্টি ছিল প্রতিবেশী দুই লম্পট মামুন (৩৪) ও জুয়েলের (৩৫)। তারা প্রায় রাতেই ওই প্রবাসীর বাড়ির ঘরের ভেন্টিলেটর বা জানালা দিয়ে ভেতরে উঁকিঝুঁকি মারত। গত মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে প্রবাসীর অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েটি (১৪) প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে বের হয়। পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা মামুন ও জুয়েল আকস্মিক মেয়েটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং ওড়না দিয়ে মুখ বেঁধে ফেলে। এরপর ধারালো অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে চিৎকার করতে না দিয়ে বাড়ির পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে দুই জন মিলে অসহায় মেয়েটির ওপর পাশবিক নির্যাতন ও গণধর্ষণ চালায়। বর্বরতার এখানেই শেষ নয়; ধর্ষণের সময় তারা মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে। ঘটনাটি কাউকেও জানালে ইন্টারনেটে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া ও সপরিবারে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে অবুজ মেয়েটিকে ফেলে রেখে তারা চলে যায়।

নির্যাতনের পর সকালে ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী কাঁদতে কাঁদতে বিষয়টি তাঁর মাকে খুলে বলে। মেয়ের মুখে এই নৃশংসতার বিবরণ শুনে মা বাদী হয়ে আতাইকুলা থানায় মামুন ও জুয়েলের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্ত মামুনের ঘরে দুটি এবং জুয়েলের ঘরে তিনটি সন্তান রয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে অবুজ স্কুলছাত্রীকে এমন পাশবিক নির্যাতনের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। বিক্ষুব্ধ শত শত গ্রামবাসী বুধবার (১ জুলাই) রাতে প্রথমে প্রধান আসামি মামুনের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে মামুনের ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এরপর আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে উত্তেজিত জনতা অপর আসামি জুয়েলের বাড়িতে চড়াও হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

খবর পেয়ে আতাইকুলা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, “স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাবনা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত মামুন ও জুয়েল এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছে। অপরাধীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক বিশেষ টিম কাজ করছে। আইন নিজের হাতে না তুলে শান্ত থাকার জন্য এলাকাবাসীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।”ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *