স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর শহরের আরবপুর-বাঁশহাটা এলাকার একটি সচল শিল্প প্রতিষ্ঠান ‘বাবলু ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ’ যেন মুহূর্তেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দিনদুপুরে ৪০-৫০ জনের একটি সশস্ত্র দল হানা দিয়ে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে পুরো কারখানা। এই হামলা, ভাঙচুর ও ক্যাশ বাক্স লুটের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল থেকেই পুলিশ তাদের আটক করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—যশোর সদর উপজেলার আলমনগরের জিয়াউল হক, আরবপুর এলাকার কামাল হোসেন এবং সায়াদ হোসেন। আটকের পর পুলিশ তাদের আদালতে হাজির করলে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, শহরের বিবি রোড এলাকার বাবলু তালুকদার বাঁশহাটা এলাকায় নিজস্ব ও ভাড়া করা জমিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি ওয়েল্ডিং ও লেদ ফ্যাক্টরি চালিয়ে আসছেন। তবে কারখানার ওই জমির একটি অংশ নিয়ে আদালতে দেওয়ানি মামলা চলছে। এই বিরোধের জের ধরেই গত ২৪ মে সকাল সোয়া ১১টার দিকে একদল সন্ত্রাসী লোহার রড, শাবল, হাতুড়ি ও গ্রাইন্ডার মেশিন নিয়ে কারখানায় চড়াও হয়।
তারা প্রথমে কারখানার সীমানা প্রাচীর ভেঙে ভেতরে ঢোকে। এরপর শুরু হয় তাণ্ডব। চোখের পলকে দামি লেদ মেশিন, কারখানার যন্ত্রপাতি এবং অফিস কক্ষ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানের মালিক বাবলু তালুকদার জানান, হামলাকারীদের হাতে অস্ত্র থাকায় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় শ্রমিক-কর্মচারীরা ভয়ে বাধা দেওয়ার সাহস পাননি।
ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান টেনে বাবলু তালুকদার দাবি করেন, সন্ত্রাসীদের ভাঙচুরে তাঁর মূল্যবান মেশিন ও মালামালের প্রায় ৭০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া বৈদ্যুতিক সংযোগ ও অন্যান্য সরঞ্জাম ধ্বংস করায় আরও ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। শুধু ভাঙচুরই নয়, যাওয়ার সময় হামলাকারীরা তাঁর অফিস কক্ষের ড্রয়ার ভেঙে নগদ ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকাও লুটে নিয়ে গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই দুর্ধর্ষ হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের পর পরই অ্যাকশনে নামে প্রশাসন। দ্রুত তিন আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে এবং এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা বাকি জড়িতদের ধরতেও পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

