স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর সদর উপজেলার মঠবাড়ি গ্রামে পৈতৃক ও শরিকি সম্পত্তি জবরদখল, সাধারণ ক্রেতার সাথে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণা এবং রাজনৈতিক খোলস বদলে এলাকায় কৃত্রিম প্রভাব বিস্তারের এক অত্যন্ত গুরুতর ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মো. সোহেল রানা নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আপন শরিকদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং জমি বিক্রি করেও তা ক্রেতাকে বুঝিয়ে না দেওয়ার এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের বারুদ উথলে উঠছে। স্থানীয়দের সুনির্দিষ্ট দাবি, অভিযুক্ত সোহেল রানা বিভিন্ন সময়ে নিজের আখের গোছাতে ও এলাকায় একক আধিপত্য বজায় রাখতে সুকৌশলে রাজনৈতিক দল ও পরিচয় পরিবর্তন করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে আসছেন। প্রাক-ঈদের এই সময়ে গ্রামীণ জনপদে জমি নিয়ে এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করছে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।
ভুক্তভোগী শরিকদের লিখিত অভিযোগ ও আভিযানিক নথির বিবরণ অনুযায়ী, মঠবাড়ি গ্রামের পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত শরিকদের বৈধ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কৃত্রিম বিরোধ ও সীমানা জটিলতা সৃষ্টি করে আসছিলেন সোহেল রানা। একপর্যায়ে তিনি শরিকদের অবরুদ্ধ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বেশ কিছু মূল্যবান জমি সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অপচেষ্টা চালান। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে আরও একটি বড় ধরনের জালিয়াতির তথ্য সামনে এনেছেন স্থানীয়রা। জানা গেছে, শফিকুল ইসলাম নামের এক সাধারণ ক্রেতার কাছে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে একটি জমি রেজিস্ট্রি বা বিক্রয় করলেও দীর্ঘদিন ধরে সেই জমির দখল ও সীমানা বুঝিয়ে দিচ্ছেন না সোহেল রানা। টাকা ও জমি দুই-ই হারিয়ে ক্রেতা শফিকুল এখন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে বিচার চেয়ে ঘুরছেন।
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা জমি দখল ও প্রতারণার এই সমস্ত গুরুতর অভিযোগ সম্পূর্ণ কাল্পনিক, সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিযুক্ত সোহেল রানা। তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে পাল্টা দাবি করেন, “আসল সত্য হলো আমার আপন চাচা রফিকুল ইসলামই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার আশ্রয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আমার ন্যায্য শরিকি জমি আমাকে বুঝিয়ে দিচ্ছেন না। তিনি স্থানীয় একটি মসজিদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই সামাজিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমার প্রতি ভীষণ ক্ষুব্ধ ও ইর্ষান্বিত হয়ে উঠেছেন। মূলত গ্রামীণ দলাদলি ও মসজিদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই চাচা রফিকুল ও তাঁর অনুসারীরা আমার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতে এই মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন। ওই জমির সীমানা ও শফিকুলের বিষয়ের সাথে আমার নূন্যতম কোনো অবৈধ সম্পর্ক নেই।”
মঠবাড়ি গ্রামের এই স্পর্শকাতর জমি বিরোধের বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ জানিয়েছেন, শরিকি জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে ও স্থানীয় সালিশি দরবারে বিরোধ চলমান রয়েছে। তবে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যেন কারও জমি জবরদখল করতে না পারে, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর নজরদারি রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে ভুক্তভোগী শরিক ও ক্রেতা পক্ষ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার ও জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সুনির্দিষ্ট পিটিশন ও ফৌজদারি মামলা দায়েরের জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

