স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর সদর উপজেলার অত্যন্ত ব্যস্ততম ও জনবহুল এলাকা ঝুমঝুমপুর উপজেলা মোড়ে মধ্যরাতের অন্ধকারে এক দুর্ধর্ষ ও পরিকল্পিত হ্যাটট্রিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। একটি সংঘবদ্ধ ও চতুর চোরচক্র একই রাতে পরপর তিনটি ভিন্ন ভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে হানা দিয়ে নগদ অর্থ লুটপাটসহ ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করেছে। চুরির মূল মিশন হিসেবে চোরেরা কেবল নগদ টাকার সন্ধানে দোকানগুলোর ক্যাশ ড্রয়ার ভেঙে তছনছ এবং সিসিটিভি ক্যামেরার মূল তার কেটে সম্পূর্ণ অকেজো করে দেয়। গতকাল বুধবার (২৪ জুন) গভীর রাতে ঝুমঝুমপুর উপজেলা মোড়ের এই ঘটনায় স্থানীয় পুরো ব্যবসায়ী মহলের মাঝে চরম আতঙ্ক, ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, বুধবার গভীর রাতে চোরচক্রের প্রথম ও প্রধান টার্গেট ছিল উপজেলা মোড়ের বিখ্যাত ‘কনক এন্টারপ্রাইজ’। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. ফারুক হোসেন অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই দোকানে মোবাইল ফ্লেক্সিলোড ও বিকাশের বড় অঙ্কের অর্থনৈতিক লেনদেনের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। এর আগেও তাঁর এই দোকানে একাধিকবার চুরির ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার গভীর রাতে চোরেরা অত্যন্ত পেশাদার কায়দায় কনক এন্টারপ্রাইজের পেছনের টিন কেটে সুকৌশলে ভেতরে প্রবেশ করে। ভেতরে ঢোকার আগেই ধরা পড়ার ভয়ে তারা দোকানের প্রধান সিসিটিভি ক্যামেরার মূল তার ও সংযোগ কেটে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এরপর তারা ক্যাশ কাউন্টারে থাকা তিনটি শক্ত লোহার ক্যাশ ড্রয়ার ভেঙে ফেলে এবং ভেতরে থাকা নগদ টাকা হাতিয়ে নেয়। শুধু তাই নয়, টাকার পরিমাণ কম হওয়ায় আরও টাকা লুকিয়ে রাখা আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে দোকানের ভেতরের সমস্ত আলমারি ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র-কাগজপত্র ছিঁড়ে তছনছ করে একাকার করে ফেলে।
একই রাতে চোরচক্রটি কনক এন্টারপ্রাইজের ঠিক পাশে অবস্থিত একটি খাবারের হোটেলেও গ্রিল,তালা ভেঙে প্রবেশ করে। সেখানে ক্যাশ ড্রয়ার ভেঙে নগদ অর্থের সন্ধান করার পাশাপাশি চোরেরা ফ্রিজে রাখা রান্না করা বিরিয়ানি বা তরকারি এবং দামী কোল্ড ড্রিংকস ও কোমল পানীয় বের করে আয়েশ করে ভক্ষণ করে। এরপর তারা পাশের আরও একটি মাঝারি চায়ের দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ক্যাশ ড্রয়ারসহ দোকানে থাকা দামী সুপারি ও বিস্কুটের কার্টন নিয়ে চম্পট দেয়।
ভোরবেলা দোকান খুলতে এসে এই বীভৎস চুরির দৃশ্য দেখে স্তব্ধ হয়ে যান ব্যবসায়ীরা। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “চোরদের মূল লক্ষ্যই ছিল ক্যাশ কাউন্টারের নগদ টাকা। তারা যেভাবে ক্যাশ ড্রয়ার ভেঙেছে এবং সমস্ত কাগজপত্র এলোমেলো করে শুধু টাকার খোঁজ করেছে, তাতেই স্পষ্ট যে তারা সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এখানে হানা দিয়েছিল।”
ঝুমঝুমপুর বাজারের স্থানীয় সাধারণ ব্যবসায়ীরা সরাসরি অভিযোগ করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বর্তমান সময়ে এলাকায় মাদকাসক্ত, হেরোইনখোর ও কিশোর গ্যাংয়ের নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিদের আনাগোনা ও রাজত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই মাদকাসক্ত ও নেশাখোরদের একটি সিন্ডিকেট চক্রই নিয়মিতভাবে রাতের বেলা বাজার এলাকায় এই ধরনের চুরির ঘটনা ঘটাচ্ছে। বার বার চুরির ঘটনা বাড়ায় তারা ব্যবসায়িক মূলধন হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। তারা দ্রুত চোরদের আইডেন্টিফাই করে আইনের আওতায় আনার জন্য এবং ঝুমঝুমপুর বাজার এলাকায় নৈশকালীন পুলিশি টহল ও নিরাপত্তা জোরদারের জোর দাবি জানান।
এদিকে, ঝুমঝুমপুর উপজেলা মোড়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এক রাতে ৩ দোকানে এমন দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন অত্যন্ত দায়সারাভাবে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “বিষয়টি এখনো আমার জানা নেই। তবে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ বা এজাহার দিলে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।” পুলিশের এমন গৎবাঁধা ও গড়পড়তা জবাবে বাজারের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মাঝে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

