স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের ঐতিহ্যবাহী ও সর্ববৃহৎ চিকিৎসাকেন্দ্র ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ভেতরের পরিবেশ সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন, রোগীবান্ধব ও জীবাণুমুক্ত রাখার লক্ষ্যে এক নজিরবিহীন ও প্রশংসনীয় ‘তেলাপোকা নিধন’ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আজ বুধবার (২৪ জুন) রাতে হাসপাতালের বিভিন্ন ইনডোর ওয়ার্ডের ভেতরে এই বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালানো হয়। সাধারণ রোগীদের দোরগোড়ায় মানসম্মত ও স্বাস্থ্যকর চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে খোদ হাসপাতালের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্মকর্তা সশরীরে এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন।
হাসপাতাল সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন সাধারণ ও পেয়িং ওয়ার্ডের শয্যা, দেয়ালের কোনা এবং আসবাবপত্রের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে তেলাপোকা ও ক্ষতিকর পোকামাকড়ের উপদ্রব লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। এতে চিকিৎসাধীন সাধারণ রোগী ও তাঁদের সাথে থাকা স্বজনদের পোহাতে হচ্ছিল চরম অস্বস্তি। বিষয়টি অনুধাবন করে আজ বুধবার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, যশোরের অত্যন্ত নিষ্ঠাবান ও গতিশীল তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ হুসাইন শাফায়াত সশরীরে বিভিন্ন ওয়ার্ডের ভেতরে উপস্থিত হন। তাঁর সরাসরি দিকনির্দেশনা ও প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডের কোনায় কোনায়, বেডের নিচে এবং ফাঁকফোকরে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব কীটনাশক ও তেলাপোকা মারার বিশেষ ওষুধ ছিটানো হয়।
তত্ত্বাবধায়ক এই ঝটিকা ও জনকল্যাণমুখী অ্যাকশন সফল করতে রাতভর অভিযানে তাঁর সাথে পুরো দমে অংশ নেন হাসপাতালের প্রধান ওয়ার্ড মাস্টার, দায়িত্বপ্রাপ্ত জমাদার ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের প্রধান সর্দারেরা। তত্ত্বাবধায়ক এর কড়া নির্দেশে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা প্রতিটি শয্যার চারপাশ নিখুঁতভাবে পরিষ্কার করেন এবং ক্ষতিকর পোকামাকড়ের বংশ ধ্বংস করতে স্প্রে করেন।
হাসপাতালের এই সময়োপযোগী ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভর্তি থাকা একাধিক রোগী ও স্বজনরা অত্যন্ত আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি হাসপাতালে ডাক্তার বাবুরা নিজেরা এসে এভাবে পোকামাকড় মারার তদারকি করছেন, এটা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। এতে তেলাপোকার উপদ্রব যেমন কমবে, তেমনি হাসপাতালও জীবাণুমুক্ত থাকবে।” হাসপাতাল প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, রোগীদের সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ শতভাগ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার স্বার্থে এই ধরনের ঝটিকা পোকা নিধন ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান আগামী দিনগুলোতেও নিয়মিত বিরতিতে জশোরে সচল রাখা হবে।ছবি সংগৃহীত।


