যশোরে রাজারহাট চামড়ার হাট ও বাস টার্মিনালে জেলা প্রশাসনের অভিযান: ৬ মামলায় ১৮ হাজার টাকা জরিমানা

যশোরে রাজারহাট চামড়ার হাট ও বাস টার্মিনালে জেলা প্রশাসনের অভিযান: ৬ মামলায় ১৮ হাজার টাকা জরিমানা

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

পবিত্র ঈদুল আজহা পরবর্তী চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণ, সঠিক বাজারজাতকরণ এবং পরিবহন খাতে সার্বিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে যশোরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্পটে পৃথক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন। আজ শনিবার (৩০ মে, ২০২৬) ঐতিহ্যবাহী রাজারহাট চামড়ার হাট এবং যশোর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত ও মনিটরিং অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় সড়ক পরিবহন আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ৬টি মামলায় মোট ১৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের অন্যতম বৃহৎ চামড়ার বাজার রাজারহাটে চামড়া সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের প্রকৃত পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে এই মনিটরিং অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে হাটের সার্বিক কার্যক্রম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিদর্শন করা হয় এবং কোরবানির চামড়া নিয়ে যেকোনো ধরনের সিন্ডিকেট, অবৈধভাবে মজুদ ও পার্শ্ববর্তী দেশে চোরাচালান রোধে প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও ইজারাদারদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়। এই তদারকি অভিযানে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, বিসিকের উপমহাব্যবস্থাপক, হাটের ইজারাদার এবং চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি উপস্থিত ছিলেন।

রাজারহাটে মনিটরিং শেষে যশোর বাস টার্মিনালে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় আরেকটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ঈদে ঘরমুখী ও কর্মস্থলে ফেরা মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে বাস মালিক সমিতিসহ সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানি না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

একই সাথে টার্মিনালে ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সেখানে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর বিভিন্ন ধারায় আইন অমান্য করায় মোট ছয়টি মামলা দায়ের করে ১৮ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। জরিমানার সম্পূর্ণ অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে স্পটেই আদায় করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আশীষ কুমার দাস এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাওমীদ হাসান যৌথভাবে এই জনস্বার্থমূলক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বার্থে ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই ধরণের তদারকি ও অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। (ছবি: সংগৃহীত)

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *