স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
ভারতের দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘পার্লামেন্ট মার্চ’ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতার ওপর শাসকদল বিজেপি সরকারের বর্বর পুলিশি হামলা, দমন-পীড়ন ও নির্বিচার গ্রেপ্তারের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। একই সাথে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করে যশোর শহরে এক ব্যতিক্রমী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই ২০২৬) মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করে যশোর প্রেস ক্লাব চত্বরে ‘দিল্লির ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সংহতি কমিটি, যশোর’-এর উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ছাত্র সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এ সংহতি সমাবেশে অংশ নেন।
সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, যশোর জেলা সংসদের সভাপতি রাশেদ খানের সভাপতিত্বে বক্তারা দিল্লির রাজপথে চলমান রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের কড়া সমালোচনা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে রাশেদ খান বলেন, সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, “দিল্লির রাজপথে ছাত্র-জনতার ওপর যে দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে, তা শুধু একটি সরকারের রাজনৈতিক সংকটের বহিঃপ্রকাশ নয়; এটি গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং নাগরিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। শান্তিপূর্ণভাবে দাবি উত্থাপন করা কোনো অপরাধ নয়। বরং জনগণের কণ্ঠরোধ করতে রাষ্ট্রীয় শক্তির ব্যবহার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে দুর্বল করে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—যেখানে তরুণ সমাজ ন্যায় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাস্তায় নেমেছে, সেখানে দমন-পীড়ন শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। ছাত্র-জনতার ন্যায্য দাবিকে লাঠিচার্জ, গ্রেপ্তার ও ভয়ভীতি দিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না। দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই দিল্লির আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার প্রতি সংহতি জানানো শুধু সহমর্মিতা নয়, এটি গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে একটি নৈতিক অবস্থান। আমরা অবিলম্বে পুলিশি দমন-পীড়ন বন্ধ, আটক আন্দোলনকারীদের মুক্তি এবং মতপ্রকাশ ও সংগঠিত হওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাই।”
সংহতি জানিয়ে সিপিবি নেতা কমরেড খবির শিকদার বলেন, “গণতান্ত্রিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনগণের ন্যায্য আন্দোলনের ওপর রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন কোনো দেশের জনগণের সংগ্রামকে থামিয়ে রাখতে পারে না। দিল্লিতে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা শুধু ভারতের একটি ঘটনা নয়, এটি গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতার প্রশ্ন। জনগণের ন্যায্য দাবিকে লাঠিচার্জ, গ্রেপ্তার কিংবা ভয়ভীতি দিয়ে কখনো স্থায়ীভাবে দমন করা যায় না। দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। তাই দিল্লির আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার প্রতি সংহতি জানানো আমাদের গণতান্ত্রিক ও নৈতিক দায়িত্ব। আমরা অবিলম্বে দমন-পীড়ন বন্ধ, আটক আন্দোলনকারীদের মুক্তি এবং মতপ্রকাশ ও সংগঠিত হওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাই।”
সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কর আইনজীবী এহসানুল হক সিয়াম, ছাত্রনেতা ইব্রাহিম খলিল, শিক্ষক নেতা খানজাহান আলী শান্ত এবং বাসদ নেতা উজ্জ্বল বিশ্বাসসহ বিভিন্ন প্রগতিশীল ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
সমাবেশ থেকে বক্তারা সারাবিশ্বের মানবাধিকার ও প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তারা অবিলম্বে দিল্লিতে পুলিশের সকল প্রকার সহিংসতা ও গ্রেপ্তার বন্ধের তাগিদ দেন। একই সাথে আটককৃত আন্দোলনকারীদের অবিলম্বে মুক্তি এবং মুক্তচিন্তা ও মতপ্রকাশের অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখার জোর দাবি জানিয়ে রাজপথের এই লড়াইয়ে সংহতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন। ছবি সংগৃহীত।


