যশোরে অ্যাডভোকেট সেতুকে আইনজীবী সমিতির শোকজ

যশোরে অ্যাডভোকেট সেতুকে আইনজীবী সমিতির শোকজ

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

বিজ্ঞ বিচারকের নাম ব্যবহার, ঘুষ বাণিজ্য এবং অবৈধ তদবিরের মাধ্যমে আদালতে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট কাজী রেফাত রেজওয়ান সেতুকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির এক জরুরি সিদ্ধান্তের আলোকে এই নোটিশ জারি করা হয়। সমিতির গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে আদালতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার দায়ে কেন তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না— তা আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম. এ. গফুর স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানো নোটিশের বিবরণ থেকে জানা গেছে, গত ২৮ জুন যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৪র্থ আদালতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ আপিল মামলার (ক্রিমিনাল আপিল নং-৮২৫/২৫ ও ৮২৬/২৫) চূড়ান্ত শুনানির দিন ধার্য ছিল। ওই মামলা দুটিতে আইনগতভাবে নিযুক্ত বা ওকালতনামাপ্রাপ্ত আইনজীবী না হওয়া সত্ত্বেও অ্যাডভোকেট কাজী রেফাত রেজওয়ান সেতু নিয়মবহির্ভূতভাবে পূর্বের সময়ের আবেদন প্রত্যাহার করিয়ে নেন এবং নিজেই শুনানিতে অংশ নেন। এর ঠিক পরদিন ২৯ জুন আপিল দুটি বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক মঞ্জুর হয় এবং সংশ্লিষ্ট আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। নোটিশে আরও অভিযোগ করা হয়, অ্যাডভোকেট সেতু তাঁর বিচারক স্ত্রীর নাম ও পদবি অপব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে যশোরের বিভিন্ন আদালতে ঘুষ ও তদবিরের মাধ্যমে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করে আসছিলেন, যা আইনজীবী সমাজের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং আদালতের পবিত্র ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছে।

সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ধরনের অনৈতিক ও বেআইনি কর্মকাণ্ড যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির গঠনতন্ত্রের সম্পূর্ণ পরিপন্থী ও গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ। নির্ধারিত সাত দিনের মধ্যে যদি অভিযুক্ত আইনজীবী সন্তোষজনক ও যুক্তিসঙ্গত লিখিত জবাব দিতে ব্যর্থ হন, তবে সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাঁর সদস্যপদ স্থগিত বা বাতিলসহ কঠোর আইনি ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন দাবি করে অভিযুক্ত আইনজীবী অ্যাডভোকেট কাজী রেফাত রেজওয়ান সেতু গণমাধ্যমকে জানান, “গত ২৮ জুন আমি অন্য একটি মামলার কাজে ওই আদালতে উপস্থিত ছিলাম। তখন বিজ্ঞ বিচারক এজলাসে উপস্থিত একজন মক্কেলকে জানান যে আজ শুনানি না হলে মামলার রায় হয়ে যাবে। ওই সময় ওই ব্যক্তির সাথে থাকা আমার এক পূর্বপরিচিত ব্যক্তি আমার কাছে এসে আপিল মামলা দুটির তাৎক্ষণিক শুনানি করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেন। মানবিক কারণে ও একজন আইনজীবীর পেশাগত দায়িত্ব থেকে আমি বিজ্ঞ বিচারকের মৌখিক অনুমতি নিয়েই শুনানিতে অংশ নিয়েছিলাম। বিচারককে প্রভাবিত করা বা স্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আইনজীবী সমিতিতে এর আইনি ও লিখিত জবাব দাখিল করব।” এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যশোর আদালত পাড়ায় আইনজীবীদের মাঝে ব্যাপক গুঞ্জন ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *