যশোর কুইন্স হাসপাতালের সামনের কাশিমপুর সার্জিক্যালের বিরুদ্ধে ক্রেতা হয়রানির অভিযোগ!

যশোর কুইন্স হাসপাতালের সামনের কাশিমপুর সার্জিক্যালের বিরুদ্ধে ক্রেতা হয়রানির অভিযোগ!

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

যশোর শহরের জেল রোডস্থ কুইন্স হাসপাতালের বিপরীতে অবস্থিত ‘কাশিমপুর সার্জিক্যাল এন্ড মেডিসিন’ নামক একটি নামি ফার্মেসির বিরুদ্ধে ইনটেক (অক্ষত) ওষুধ ফেরত না নিয়ে এক নারী ক্রেতার সাথে চরম দুর্ব্যবহার এবং ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে হয়রানি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী নারী উপায়ান্তর না পেয়ে ‘আমরা যশোরিয়ান’ নামক একটি ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট দিয়ে এই ফার্মেসি বয়কটের ডাক দিয়েছেন। এই প্রতিবেদন লেখার প্রায় ১৫ ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টটি করা হয়।

ফেসবুক পোস্টের তথ্য ও ভুক্তভোগীর বিবরণী থেকে জানা যায়, ওই নারী ক্রেতা কাশিমপুর সার্জিক্যাল থেকে ১,৫০০ টাকার ওষুধ কেনেন, যার মধ্যে একটি নির্দিষ্ট ওষুধের দামই ছিল ১,০০০ টাকা। ওষুধটি সম্পূর্ণ ইনটেক বা অক্ষত থাকা সত্ত্বেও সেটি পরিবর্তন বা ফেরত নিতে ফার্মেসি কর্তৃপক্ষ সাফ অস্বীকৃতি জানায়। ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন যে, তিনি নারী হওয়ার কারণে দোকানের কর্মচারীরা তার সাথে অত্যন্ত অসভ্য ও বাজে আচরণ করেছে।

হয়রানির বিবরণ দিয়ে ওই নারী লেখেন, ওষুধ ফেরতের জন্য তাকে প্রথমে বলা হয় ‘কাল আসেন’, এরপর বলা হয় ‘শুক্রবার আসেন’। এভাবে টানা ১৫ থেকে ২০ দিন ঘুরানোর পর সবশেষে দোকানদার দাবি করে, এই ওষুধ নাকি তাদের দোকানেরই নয়। তখন ভুক্তভোগী চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরা ও বিক্রয়ের সময় পরীক্ষা করতে বললে কর্মচারীরা ‘সময় নেই’ বলে এড়িয়ে যায় এবং ডিরেক্ট জানিয়ে দেয় তারা ওষুধ ফেরত নিবে না। ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কমদামি ওষুধ হলে হয়তো সমস্যা হতো না, কিন্তু এত দামি ওষুধ যে বিক্রির পর আর কোনোভাবে ফেরত নেওয়া হবে না, তা বিক্রির সময় ক্রেতাকে জানানো উচিত ছিল।

এদিকে এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসার পর স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার একাধিক সাধারণ ক্রেতার অভিযোগ, এই ফার্মেসির বিরুদ্ধে এর আগেও অনৈতিকভাবে ফিজিশিয়ান স্যাম্পল (ডাক্তারদের জন্য নির্ধারিত ফ্রি ওষুধের নমুনা) চড়া দামে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রয় করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও নারীদের জন্য প্রয়োজনীয় সংবেদনশীল কিছু ওষুধের ক্ষেত্রে অধিক মূল্য রাখা এবং খারাপ আচরণ করার মতো নানা অনিয়ম এখানে নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ওষুধের মতো জরুরি সেবামূলক খাতে এমন প্রকাশ্য প্রতারণা ও অসদাচরণ বন্ধে এবং সাধারণ ক্রেতাদের অধিকার রক্ষায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের যশোর জেলা কার্যালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভোগীসহ সাধারণ ক্রেতারা। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *