স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নের সুজলপুর জামতলা এলাকায় পারিবারিক ও প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে তাসফিয়া ফাতেমা মাহি (১৭) নামে এক কিশোরী ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) ভোরের দিকে তাঁর এই মর্মান্তিক আত্মহত্যার ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়। নিহত তাসফিয়া ফাতেমা মাহি যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের শ্রীপদ্দি ঘোড়াগাছা এলাকার মো. রুহুল আমিন লালটুর কন্যা।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে পারিবারিক কলহ ও গভীর প্রেমঘটিত জটিলতার কারণে মাহি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল। এ কারণে সে কিছুদিন ধরে সুজলপুর জামতলা এলাকায় তাঁর আপন ফুপু পারভীনা আক্তার খুকুর বাড়িতে এসে অবস্থান করছিল। গত সোমবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে প্রতিদিনের মতো পরিবারের সকল সদস্য রাতের খাবার খেয়ে যে যার মতো ঘুমিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে মঙ্গলবার রাত চারটার পর মাহির ফুপা হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। এ সময় তিনি ঘরের ভেতরে তাকালে মাহিকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করে ওঠেন। তাঁর বুকফাটা চিৎকারে বাড়ির অন্য সদস্যরা দ্রুত ছুটে এসে মাহিকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নিচে নামিয়ে উদ্ধার করেন। তবে ততক্ষণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে স্বজনরা ধারণা করেন। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক তীব্র কলহ এবং প্রেমঘটিত সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে মাহি এই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে বলে তাঁর স্বজনরা জানিয়েছেন।
খবর পেয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতসহ প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম শুরু করেছে। এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ গভীরভাবে তদন্ত শুরু করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে মৃত ফাতেমার নিজের হাতে লেখা প্রেমঘটিত একটি আবেগঘন চিঠি বা সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ, যা সে মারা যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে লিখে গিয়েছিল। কিশোরী মাহির এই অকাল ও করুণ মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ছবি সংগৃহীত।

