শহিদ জয় :
মাদক ও সন্ত্রাস দমনে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখে পুলিশকে সাহসিকতার সাথে মাঠে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন খুলনা রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ধরণের আপস করা হবে না; শুধু খুচরা কারবারি বা ক্যারিয়ার নয়, মাদকের নেপথ্যে থাকা গডফাদারদেরও আইনের আওতায় এনে তাদের আয়ের উৎস ও সম্পদের উৎস তদন্ত করা হবে।
আজ বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) যশোর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কড়া কথা বলেন খুলনা রেঞ্জ প্রধান।
মতবিনিময় সভায় ডিআইজি বলেন, মাদক নির্মূলে সামাজিক সচেতনতা ও পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি একসাথে কাজ করবে। যদি কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধেও মাদকের সাথে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলে, তাকেও কোনো অনুকম্পা দেওয়া হবে না।
উদ্বেগজনক কিশোর গ্যাং কালচার প্রসঙ্গে তিনি জানান, খুলনা বিভাগের সব জেলার পুলিশ সুপারদের কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে ‘অনলাইন জুয়া’ চক্রকে শনাক্ত করতে একটি বিশেষ কারিগরি টিম গঠনের কথা জানান তিনি।
অপরাধ দমনে পুলিশের আইনি পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে ডিআইজি বলেন, ছোট-বড় সব ধরণের চুরি ও নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হবে। বিশেষ করে ধর্ষণের মত জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে অভিযুক্তকে সর্বোচ্চ ২ দিনের মধ্যে গ্রেপ্তার করা এবং নিখুঁত তদন্তের মাধ্যমে আদালতে সঠিক চার্জশিট জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের ফ্যাসিবাদী অপশক্তি বা কোনো ধরনের দুষ্কৃতকারী যেন খুলনা অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করতে না পারে, সে ব্যাপারে জেলা পুলিশ কঠোর ও সজাগ অবস্থানে রয়েছে।
এর আগে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান যশোর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এসে পৌঁছালে তাঁকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সুসজ্জিত সালামি (গার্ড অব অনার) প্রদান করা হয়।
পরবর্তীতে সরকারি নির্দেশিত ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কার্যালয় চত্বরে একটি জলপাই গাছের চারা রোপণ করেন তিনি। চলতি অর্থ বছরে যশোর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি ও পুলিশ স্থাপনায় ৩ হাজার বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও নিশ্চিত করা হয়।
মতবিনিময় সভায় যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজিবুল ইসলাম, মিরাজুল ইসলাম, সাখাওয়াত হোসেন, আহসান হাবিব, কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মোঃ মাসুম খান, ট্রাফিক ইনচার্জ (টিআই) মাফুজুর রহমান এবং ডিবি প্রধান ইন্সপেক্টর সুজন কুমার মন্ডল উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি ও প্রেসক্লাব যশোরের সাবেক সভাপতি একরাম উদ দ্দৌলা, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এস এম তৌহিদুর রহমান, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি আকরামুজ্জামান, সাবেক সভাপতি নূর ইসলাম, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সাকিরুল কবির রিটন, কাজী আশরাফুল আজাদ, দেওয়ান মোর্শেদ আলম, আব্দুল কাদের, মীর মঈন হোসেন মুসা ও ইন্দ্রোজিৎ রায়সহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। ছবি সংগৃহীত।


