‘মাদকের কারণেই খুন হলেন শাম্মী’

‘মাদকের কারণেই খুন হলেন শাম্মী’

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোরের শেখহাটি তমালতলার গৃহবধূ ছামিনা আক্তার শাম্মী (২৮) হত্যার বিচারের দাবি এখন রূপ নিয়েছে মাদকবিরোধী গণআন্দোলনে। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে শেখহাটি তরফ-নওয়াপাড়া এলাকা থেকে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনদের অংশগ্রহণে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ‘প্রেসক্লাব যশোর’-এর সামনে এসে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শত শত মানুষ শাম্মী হত্যার মূল কারণ হিসেবে এলাকায় ছড়িয়ে পড়া ‘মাদক’ ও এর সাথে জড়িত গডফাদারদের দিকে আঙুল তোলেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সর্বনাশা মাদকের কারণেই গতকাল সোমবার ভোরে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হয়েছে নিরীহ গৃহবধূ শাম্মীকে।

প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে এলাকাবাসী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ তাঁদের বক্তব্যে এলাকার মাদক পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ্যে তুলে ধরেন। বক্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তরফ-নওয়াপাড়া, সুলতানপুর এবং এর আশপাশের গ্রামগুলোতে এখন মাদকের হাট বসেছে। যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে। চিহ্নিত কিছু অসাধু লোক ও গডফাদারদের প্রত্যক্ষ মদদ ও সহযোগিতায় দিন-দুপুরে এই এলাকায় মাদক বেচাকেনা চলছে।”

তাঁরা দাবি করেন, ঘাতক স্বামী সুজন মাদকের করাল গ্রাসে নিমজ্জিত ছিল। এই মরণনেশার টাকা ও পারিবারিক কলহের জের ধরেই সে সোমবার ভোরে নিজের স্ত্রীকে ঠান্ডা মাথায় কুপিয়ে হত্যা করে। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শুধু খুনি সুজনের ফাঁসি দিলেই শেখহাটি শান্ত হবে না, যতক্ষণ না তরফ-নওয়াপাড়া ও সুলতানপুর এলাকার চিহ্নিত মাদক স্পটগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (৮ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পারিবারিক বিরোধের জেরে শেখহাটি তমালতলার নিজ বাসায় স্ত্রী শাম্মীকে ধারালো চাকু দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে স্বামী সুজন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই শাম্মীর মৃত্যু হয়। স্ত্রীকে হত্যার পর লোকচক্ষুর অন্তরালে যেতে সুজন নিজের বুকেও ছুরিকাঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। বর্তমানে সে আশঙ্কাজনক অবস্থায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পুলিশি হেফাজতে ও কড়া পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সোমবার রাতেই নিহতের বাবা শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা চাকুটি উদ্ধার করেছে।

আজকের মানববন্ধন থেকে এলাকাবাসী অবিলম্বে তরফ-নওয়াপাড়া ও সুলতানপুর এলাকায় মাদক নির্মূলে জেলা পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) বিশেষ সাঁড়াশি অভিযানের জোর দাবি জানান। প্রশাসন যদি দ্রুত মাদক সিন্ডিকেট ও খুনি সুজনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তবে আগামীতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে বলে মানববন্ধনে ঘোষণা করা হয়। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *