মণিরামপুরে এবার প্রৌঢ়কে কুপিয়ে খুন!

মণিরামপুরে এবার প্রৌঢ়কে কুপিয়ে খুন!

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি:

যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও পূর্ব বিরোধের জের ধরে ইমামুল হোসেন (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে খুন করেছে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা। সোমবার (৮ জুন ২০২৬) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের শরমপুর গ্রামের মতিনের দোকানের পেছনে এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত ইমামুল হোসেন ওই গ্রামেরই মৃত রহিম সরদারের ছেলে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শরমপুর গ্রামের রবিউল, হোসাইন ও রাকিবদের সাথে নিহত ইমামুল হোসেনের দীর্ঘদিন ধরে তীব্র পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধ চলে আসছিল। সোমবার রাতে ইমামুল স্থানীয় মতিনের দোকানের পেছনে অন্ধকারাচ্ছন্ন জায়গায় অবস্থান করছিলেন। প্রতিপক্ষের যুবকেরা আগে থেকেই দেশীয় অস্ত্র ও লোহার রড নিয়ে সেখানে ওৎ পেতে ছিল।

সুযোগ বুঝে তারা ইমামুলের ওপর আচমকা ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঘাতকদের ধারালো অস্ত্রের উপর্যুপরি কোপ এবং লোহার রডের আঘাতে ইমামুলের মাথার খুলি ও হাত-পা মারাত্মক জখম হয়। রক্তাক্ত ইমামুলের আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসার আগেই হামলাকারীরা অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বীরদর্পে পালিয়ে যায়।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, এই সুপরিকল্পিত ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয় একই গ্রামের শওকতের ছেলে রবিউল, এনামুলের ছেলে হোসাইন ও রাকিব, খায়রুলের ছেলে মেহেদী এবং মফিজুল ইসলামের ছেলে রাব্বি। ঘটনার পর থেকেই এই ৫ অভিযুক্ত ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে পলাতক রয়েছে।

পরে স্থানীয় জনতা ও স্বজনরা ইমামুলকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের ধারণা, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে পথেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

খুনোখুনির এই ঘটনার পর থেকে শরমপুর গ্রামজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি ও তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে রাতেই মণিরামপুর থানা পুলিশ এবং জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল এবং হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন।

মণিরামপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। অপরাধীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযুক্ত ৫ জনসহ এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে মদদদাতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে জেলাজুড়ে পুলিশের বিশেষ চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মণিরামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া চলছিল।প্রতীকী-ছবি ।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *