ভোটের মাঠে ভালো মানুষের মুখোশ!

ভোটের মাঠে ভালো মানুষের মুখোশ!

ইরফান আহমেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক :

তৃণমূলের গণতন্ত্রের উৎসব আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে যশোর জেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত ও শহরতলীর ইউনিয়নগুলোতে আগাম নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদপ্রার্থীরা নিজেদের প্রার্থীতা দাবি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এবং স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেদারসে পোস্টার, ব্যানার ও লিফলেট শেয়ার করে সাধারণ মানুষের ‘দোয়া ও আশীর্বাদ’ কামনা করছেন। কিন্তু এই নির্বাচনী প্রচারণার ভিড়ে সবচেয়ে লক্ষ্যণীয় ও উদ্বেগজনক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, আশীর্বাদপ্রার্থী কিছু বিতর্কিত মুখকে নিয়ে খোদ জনমনে তীব্র অসন্তোষ ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

ওই হাতেগোনা কয়েকজন প্রার্থীর অতীতের আমলনামা ঘেঁটে দেখা গেছে, তাদের মধ্যে রয়েছে চিহ্নিত চাঁদাবাজ, ত্রাস সৃষ্টিকারী সন্ত্রাসী, সাধারণ মানুষের জমি আত্মসাৎকারী ভূমিদস্যু,সুদ ব্যবসায়ী,যুবসমাজ ধ্বংসকারী শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী, মাদক ব্যবসার পৃষ্ঠপোষক, অবৈধ অস্ত্রধারী এবং একাধিক ফৌজদারি মামলার এজাহারনামীয় দুর্ধর্ষ আসামি। এমনকি নিজ নিজ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম রাখতে পর্দার আড়াল থেকে ভয়ংকর ‘কিশোর গ্যাং’ এর পৃষ্ঠপোষকতা করার গুরুতর অভিযোগও রয়েছে এদের কারও কারও বিরুদ্ধে।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, বাস্তব জীবনে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকলেও বর্তমান ডিজিটাল প্রচারণায় এসব প্রার্থীরা নিজেদের রাতারাতি খাঁটি ‘সমাজসেবক’ ও জনদরদী নেতা হিসেবে জাহির করছেন। ফেসবুকে তাদের চোখধাঁধানো ও জমকালো প্রচারণা দেখে সাধারণ মানুষের মনে হতে পারে, এরা যেন সমাজে একেবারেই নিষ্কলঙ্ক ও ধুয়া তুলসী পাতা। অথচ বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো এবং স্থানীয় প্রশাসনের নথিতে ও সাধারণ মানুষের মুখে মুখে এদের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগের কোনো শেষ নেই। বিতর্কিত ও চিহ্নিত এসব লোকজনের এমন ধূর্ত ও ভোল পাল্টানো প্রচারণা দেখে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরণের নেতিবাচক ও রসাত্মক মন্তব্য করছেন। সচেতন ভোটারদের অনেকেই স্পষ্ট বলছেন, ক্ষমতার চেয়ারে না বসতেই যারা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে, তারা যদি কোনোভাবে পাস করে আসে, তবে সংশ্লিষ্ট এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের জানমালের দশা কতটা করুণ ও ভয়াবহ হয়ে দাঁড়াবে—তা সহজেই অনুমেয়। এমনকি পাস না করেই বর্তমানে এলাকায় তারা যে ধরণের আধিপত্য বিস্তার ও বেপরোয়া কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, তাতেই সাধারণ নিরীহ মানুষ চরম আতঙ্কিত ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

যশোরের বিভিন্ন ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃঢ় বিশ্বাস, যদি আসন্ন নির্বাচন সম্পূর্ণ সুষ্ঠু, অবাধ এবং নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়, তবে এই সমাজবিরোধী ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের একজনও ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে পাস করতে পারবে না। এরা মূলত জনগণের ভোটের তোয়াক্কা না করে শুধুমাত্র নিজেদের পেশীর জোর, কালো টাকা কিংবা সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি ও হুমকি-ধমকি দেখিয়ে বৈতরণী পার হওয়ার ছক কষছে। অথচ এখন কৌশলগত কারণে ভালো মানুষের নিখুঁত মুখোশ পরে এলাকার কাল্পনিক উন্নয়ন এবং জনসেবার কথার ফুলঝুরি ফুটিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলীয় ব্যানারে বা প্রভাব খাটিয়ে এমন অনেক চিহ্নিত ও বিতর্কিত লোক অনায়াসেই জনপ্রতিনিধি পাস করেছিল, যার খেসারত দিতে হয়েছে সাধারণ জনগণকে। এবার যেন সেই অন্ধকার ইতিহাসের কোনো পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর শীর্ষ ও নীতিনির্ধারক কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যশোরের সর্বস্তরের জনগণ।

যশোরের সচেতন মানুষ জোর দাবি জানিয়েছে, দল বা প্রতীকের প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে শীর্ষ নেতৃত্ব যেন অতীব সতর্কতার সাথে সঠিক, সৎ, নীতিবান এবং মাঠপর্যায়ে প্রকৃত জনপ্রিয় ব্যক্তিদের হাতেই টিকিট বা মনোনয়ন তুলে দেন। সৎ জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে তবেই তৃণমূলের সাধারণ মানুষ প্রকৃত সুফল পাবে এবং সমাজ অপরাধমুক্ত হবে। সাধারণ মানুষের এই ন্যায্য অধিকার ও সামাজিক সুরক্ষার লড়াইয়ে শামিল হয়ে ‘স্ফুলিঙ্গ অনলাইন নিউজ’ স্পষ্ট ঘোষণা করছে—জনস্বার্থে কোনো ধরণের হুমকি বা রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে, খুব শীঘ্রই যশোরের মাঠপর্যায়ের সেইসব বিতর্কিত ও সমাজবিরোধী প্রার্থীদের আসল মুখোশ উম্মোচন করে তাদের অপরাধের সম্পূর্ণ নিখুঁত আমলনামা ধারাবাহিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে জনগণের সামনে প্রকাশ করবে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *