স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের বেনাপোলে পেশাগত দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে বের হওয়া স্যাটেলাইট টেলিভিশন ‘বাংলা টিভি’-এর বেনাপোল প্রতিনিধি সাংবাদিক মো. আরিফুল ইসলাম সেন্টুর (২৮) ওপর বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) সকালে বেনাপোল পোর্ট থানার কাগজপুকুর মোড়স্থ আরমান হোটেলের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম সেন্টু কাগজপুকুর (দক্ষিণ পাড়া) এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল সাড় ১০টার দিকে সাংবাদিক সেন্টু ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল যোগে নিজ বাড়ি থেকে শার্শা উপজেলা সদরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে তিনি কাগজপুকুর মোড়ের আরমান হোটেলের সামনে পৌঁছালে পূর্ব শত্রুতার জেরে একই এলাকার হোসেন আলীর ছেলে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ঝন্টু (২৬) এবং তার সাথে থাকা অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জন দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হঠাৎ সেন্টুর গতিপথ রোধ করে।
মোটরসাইকেল থেকে নামানোর সাথে সাথেই কিছু বুঝে ওঠার আগেই সন্ত্রাসী ঝন্টু ও তার সহযোগীরা লোহার রড, লাঠিসোঁটা দিয়ে সাংবাদিক সেন্টুকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি মারপিট শুরু করে। তাদের উপর্যুপরি পিটুনিতে সেন্টুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর রক্তজমাট জখম হয়। সেন্টুর আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন ও ব্যবসায়ীরা ছুটে এলে সন্ত্রাসীরা তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে বীরদর্পে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা রক্তাক্ত অবস্থায় সেন্টুকে উদ্ধার করে দ্রুত শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (নাভারণ হাসপাতাল) নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপত্র প্রদান করেন। বর্তমানে তিনি নিজ বাড়িতে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে বিশ্রামে রয়েছেন।
এই ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান হামলাকারী ঝন্টুসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে বেনাপোল পোর্ট থানায় একটি সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, একজন গণমাধ্যমকর্মীর ওপর হামলার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আরমান হোটেলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং মূল অভিযুক্ত ঝন্টুসহ ঘটনার সাথে জড়িত সকল সন্ত্রাসীকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

