স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরে মধ্যরাতে বয়োবৃদ্ধ এক চালককে ছুরির ভয় দেখিয়ে ও মারধর করে নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ ইজিবাইক ছিনতাইয়ের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় আন্তঃজেলা ইজিবাইক ছিনতাই ও ডাকাত চক্রের ৬ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গত ১৯ জুন শুক্রবার গভীর রাতে ঝিনাইদহ শহরের ব্যস্ততম হামদহ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এক বিশেষ ও ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়। আজ ২০ জুন ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ শনিবার রাতে পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন— ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার গালিমপুর গ্রামের রুস্তম আলীর ছেলে মাসুদুর রহমান (৩৭), মুনছের আলী মন্ডলের ছেলে তোফাজ্জেল হোসেন তোফা (৪২), মৃত সিদ্দিক রহমানের ছেলে মোবারক হোসেন (৪০), ছলেমানপুর গ্রামের তোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে মুকতার হোসেন (৪০), মহেশপুর উপজেলার বজরাপুর এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে আলমগীর হোসেন (৩২) এবং চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের মৃত জলিলের ছেলে সাকিল হোসেন (২৪)।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মেদিনিপুর গ্রামের মৃত বাকিয়ার রহমানের ছেলে ভুক্তভোগী মাহাবুব হোসেন (৬৫) যশোরের চৌগাছা উপজেলার পুরোপাড়া বাজার এলাকায় পরিবারসহ ভাড়া বাসায় বসবাস করেন এবং ইজিবাইক চালিয়ে কোনো রকমে জীবিকা নির্বাহ করেন।
গত ৬ জুন রাত ৯টার দিকে পুরোপাড়া বাজার থেকে মাসুদুর রহমান ও রাসেল মিয়া নামের দুই বখাটে যাত্রী সেজে যশোর শহরের পালবাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বৃদ্ধ মাহাবুবের ইজিবাইকে ওঠে। পরবর্তীতে গাড়িটি পালবাড়িতে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী অজ্ঞাত পরিচয়ের আরও দুই যাত্রীবেশী দুর্বৃত্ত গাড়িতে চড়ে বসে। এরপর তারা কৌশলে চালক মাহাবুবকে ভুল বুঝিয়ে আব্দুলপুর রেলক্রসিং পার করে নির্জন হুজুরপাড়া এলাকার মাঝামাঝি স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছানো মাত্রই চার দুর্বৃত্ত বৃদ্ধ চালকের ওপর আচমকা চড়াও হয়ে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে ধারালো ছুরি বের করে বুক ও গলায় ধরে হত্যার ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছে থাকা নগদ ১,২০০ টাকা, একটি ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন এবং কষ্টার্জিত ইজিবাইকটি জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় বৃদ্ধকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে তারা গাড়ি নিয়ে দ্রুত চম্পট দেয়।
এই ঘটনার পর গত ৮ জুন অসহায় ইজিবাইক চালক মাহাবুব হোসেন বাদী হয়ে যশোরের বিজ্ঞ আদালতে একটি ছিনতাই মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনায় মামলাটি যশোর কোতোয়ালী থানায় একটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়।
মামলা রুজুর পর যশোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি চৌকস দল তথ্য-প্রযুক্তির সর্বোচ্চ সহায়তা (কল ট্র্যাকিং ও লোকেশন ট্র্যাকিং) নিয়ে আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর শুক্রবার গভীর রাতে ঝিনাইদহের হামদহ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ওৎ পেতে থেকে পুরো চক্রটিকে ঘেরাও করে হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। ডিবি পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই আটককৃত ৬ জন যাত্রীবেশে ইজিবাইক ছিনতাই ও মারধরের ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত থাকার কথা অকপটে স্বীকার করেছে।
গ্রেফতারের পর আসামিদের আইনি প্রক্রিয়া মেনে আজ শনিবার বিকেলে যশোর কোতোয়ালী থানায় হস্তান্তর করা হয়। মামলার মূল তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) এসআই আব্দুর রউফ আটক ৬ আসামিকে কঠোর পুলিশি পাহারায় যশোরের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেন। এ সময় বিজ্ঞ আদালতের বিচারক আসামিদের জবানবন্দি ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই চক্রের সাথে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেফতার এবং ছিনতাই হওয়া ইজিবাইকটি উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।


