স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ও দেয়াড়া ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ও যাতায়াত কষ্টের চিরতরে অবসান ঘটেছে। এই দুই ইউনিয়নের গ্রামীণ জনপদে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল করতে সরকারি অর্থায়নে নবনির্মিত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য আজ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
আজ ১৯ জুন ২০২৬ শুক্রবার সকালে এক জাঁকজমকপূর্ণ ও আনন্দঘন উৎসবের মধ্য দিয়ে এই সেতুগুলোর শুভ উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। উদ্বোধনের মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমন্ত্রী মহোদয় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ওই সেতু সংলগ্ন এলাকায় একটি করে ফলজ ও বনজ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
যশোর সদর উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তদারকি ও ব্যবস্থাপনায় মোট ৬৫ লাখ ২৪ হাজার ৫৫০ টাকা ব্যয়ে অত্যন্ত টেকসই ও আধুনিক প্রাযুক্তিক মান বজায় রেখে এই তিনটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। নবনির্মিত ও উন্মুক্ত হওয়া সেতু তিনটির সঠিক ভৌগোলিক অবস্থান হলো—নওয়াপাড়া ইউনিয়নের তালবাড়ীয়া শান্তি মোড় মধ্যপাড়া খালের ওপর একটি এবং তরফদার পাড়া থেকে আড়াপাড়া সংযোগ সড়কে দ্বিতীয় সেতুটি। এছাড়া দেয়াড়া ইউনিয়নের নারাঙ্গালী থেকে ফুলবাড়িয়া যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ পথে গোডাঙ্গা খালের ওপর তৃতীয় সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। এই তিনটি টেকসই সেতু নির্মাণের ফলে ওই অঞ্চলের কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের সময়মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত এবং জরুরি চিকিৎসা সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সেতুগুলোর জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রীর সাথে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা বিএনপির সম্মানিত সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও যশোর জেলা পরিষদের সুযোগ্য প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন এবং যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহরিয়ার হক।
বর্ণাঢ্য এই গ্রামীণ উন্নয়ন উৎসবে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন যশোর সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক আব্দার হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকসহ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় প্রকৌশলীবৃন্দ, জেলা-উপজেলা প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তাগণ এবং নওয়াপাড়া ও দেয়াড়া ইউনিয়নের সর্বস্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ সুধীজন। দীর্ঘদিন পর অবহেলিত এই তিন রুটে পাকা সেতু পেয়ে সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। ছবি সংগৃহীত।


