স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে এক কলেজছাত্রীকে ফ্ল্যাটে আটকে রেখে উপর্যুপরি ধর্ষণ, দুইবার জোরপূর্বক গর্ভপাত করানো এবং পরবর্তীতে টাকা দিয়ে ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টা ও হত্যার হুমকির অভিযোগে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ওই তরুণী (২৩) মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার সীমাখালি এলাকার বাসিন্দা। এই জালিয়াতি ও ধর্ষণের ঘটনায় যশোর শহরের বকচর তেল পাম্পের পাশের মিলনের ছেলে আল মামুনকে (২৪) একমাত্র আসামি করে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে।
থানায় দায়ের করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই তরুণী যশোরের একটি স্বনামধন্য কলেজে উচ্চশিক্ষায় নিয়োজিত আছেন। সেই সূত্রে প্রায় দেড় বছর আগে যশোর শহরের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় বকচরের বাসিন্দা মামুনের সাথে তাঁর আকস্মিক পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাঁদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে মামুন ওই ছাত্রীকে বিয়ের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয়।
প্রেমের সম্পর্কের গভীরতায় বিশ্বাস স্থাপন করে তারা দুজন যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকার সরু চৌধুরীর বাড়ির একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে একত্রে বসবাস শুরু করেন। সেখানে তাদের মধ্যে নিয়মিত শারীরিক সম্পর্ক তৈরি হয়। এজাহারে ভুক্তভোগী উল্লেখ করেন, মাসে ৩০ দিনের মধ্যে অন্তত ১৫ দিনই মামুন ওই ফ্ল্যাটে এসে তাঁর সাথে রাত কাটাতো। একপর্যায়ে ওই তরুণী দুইবার অন্তঃসত্ত্বা (গর্ভবতী) হয়ে পড়লে মামুন অত্যন্ত চতুরতার সাথে জোরপূর্বক বিভিন্ন ক্ষতিকারক ওষুধ সেবন করিয়ে তা নষ্ট করায়।
পরবর্তীতে ওই কলেজছাত্রী মামুনকে সামাজিকভাবে বিয়ে করার জন্য চাপ দিলে সে বিভিন্ন ধরনের টালবাহানা ও কালক্ষেপণ করতে থাকে। নিরুপায় হয়ে তরুণী বিষয়টি মাগুরা থেকে তাঁর পিতা ও চাচাকে ডেকে এনে জানান। পরে তাঁর অভিভাবকেরা মামুনের সাথে বিয়ের বিষয়ে কথা বলতে গেলে মামুন ক্ষিপ্ত হয়ে ওই তরুণী সম্পর্কে অত্যন্ত আপত্তিকর ও আজেবাজে কুৎসা রটিয়ে তাঁর পিতা ও চাচাকে অপমান করে তাড়িয়ে দেয়।
বিষয়টি দুই পরিবার ও এলাকায় জানাজানি হলে মামুনের পরিবারের প্রভাবশালী লোকজন থানা-পুলিশ ও আইনি ঝামেলা এড়াতে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে বিপুল পরিমাণ টাকা দিয়ে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা বা আপস করার জন্য নানাভাবে প্রলোভন দেখায়। কিন্তু ভুক্তভোগী নারী টাকার বিনিময়ে সম্ভ্রমের আপস করতে রাজি না হলে মামুনের পরিবার তাকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিতে শুরু করে।
সর্বশেষ, গত ৭ জুন রাত সাড়ে ৯টার দিকে আসামি মামুন কৌশলে ওই ছাত্রীকে মোবাইল ফোনে যশোর শহরের চৌরাস্তায় দেখা করতে বলে। সরল বিশ্বাসে তরুণী সেখানে পৌঁছালে মামুন পুনরায় টাকা নিয়ে বিষয়টি চিরতরে ধামাচাপা দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এতে তরুণী অনড় থেকে অস্বীকৃতি জানালে প্রকাশ্যেই চৌরাস্তায় তাকে মারপিট এবং লোকসম্মুখেই হত্যা করার সুনির্দিষ্ট হুমকি দিয়ে মামুন ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন উল্লেখ করে ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী নিজে বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলাটি দায়ের করেন। যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আল মামুন পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতার করতে পুলিশের বিশেষ টিম বকচরসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান শুরু করেছে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।


