স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) সদস্যরা বেনাপোল সীমান্তে একটি অত্যন্ত সফল চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণের ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস, কম্বল, চাদর, ওড়না ও কসমেটিক্স সামগ্রীসহ একটি কার্গো ট্রাক জব্দ করেছে। একই সাথে এই অবৈধ মালামাল পাচারের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে একজন সরকারি কাস্টমস কর্মকর্তা (সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা) এবং ট্রাকের চালক ও হেলপারসহ মোট ৩ জন আসামিকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। আজ ২২ জুন ২০২৬ সোমবার রাত ২:০০ ঘটিকার সময় বেনাপোল বাজার হীকা সুপার মার্কেটের সামনে থেকে এই বিপুল পরিমাণ মালামালসহ তাদের আটক করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেঃ কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসি-এর সার্বিক দিক-নির্দেশনায় ভারতীয় চোরাচালানি পণ্য পাচার রোধে বেনাপোল বিওপির একটি বিশেষ চৌকস টিম অভিযানে নামেন। বেনাপোল বাজার হীরা সুপার মার্কেটের সামনে পাকা রাস্তার ওপর একটি সন্দেহভাজন ‘আহাদ পার্সেল এন্ড কুরিয়ার সার্ভিস’-এর কার্গো ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-২৪-৫৬২১) তল্লাশির জন্য থামানো হয়। পরবর্তীতে ট্রাকটিতে অবৈধ মালামাল থাকার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত হলে সেটিকে বেনাপোল বিওপিতে নিয়ে আসা হয়।
সেখানে বিজিবি সদস্যরা ট্রাকটির ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে কোনো বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ভারতীয় ৬ হাজার ৮টি শাড়ি, ৬৩টি থ্রি-পিস, ৩৮৬টি কম্বল, ২০৮টি চাদর, ৮টি ওড়না এবং ৩৩ হাজার ২২২টি বিভিন্ন প্রকার নামী-দামী কসমেটিক্স সামগ্রী জব্দ করেন। জব্দকৃত এসকল ভারতীয় মালামাল ও কার্গো ট্রাকের আনুমানিক সিজার মূল্য মোট ২,৬৭,৬৫,৩১০/- (দুই কোটি সাতষট্টি লক্ষ পঁয়ষট্টি হাজার তিনশত দশ) টাকা।
আটককৃত মালামাল পাচারের দায়ে বিজিবি যে ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে, তাদের মধ্যে একজন কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা রয়েছেন, যা পুরো সীমান্ত এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। আটককৃত আসামিরা হলেন: ইন্দ্রজিত মুখার্জী (৩৮): তিনি কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। তিনি যশোর সদর থানার বেজপাড়া গ্রামের বিশ্বজিত মুখার্জীর ছেলে। মোঃ মহসিন আলী (৩৪): তিনি কার্গো ট্রাকের চালক এবং যশোর কোতোয়ালি থানার বকচর গ্রামের মৃত আঃ লতিফের ছেলে। মোঃ জাহিদ হাসান (২১): তিনি ট্রাকের হেলপার এবং বাঘারপাড়া থানার বাকডাঙ্গা গ্রামের মোঃ আজিজুর রহমানের ছেলে।
আটককৃত চালক ও হেলপারকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাই পথে আনা এই বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মালামাল তারা অবৈধভাবে বেনাপোল সীমান্ত এলাকা থেকে বিভাগীয় শহর ঢাকায় পাচার করার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিল। আটককৃত কোটি টাকার মালামালসহ আসামিদের বিরুদ্ধে চোরাচালান আইনে মামলা দায়েরের মাধ্যমে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করার আইনি কার্যক্রম পুরোদমে চলমান রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

