নিস্তব্ধ বেনাপোল স্থলবন্দর: দুই বাংলার বন্ধুত্বের ব্যস্ত সীমানায় এখন কেবলই দীর্ঘশ্বাসের নীরবতা

নিস্তব্ধ বেনাপোল স্থলবন্দর: দুই বাংলার বন্ধুত্বের ব্যস্ত সীমানায় এখন কেবলই দীর্ঘশ্বাসের নীরবতা

শহিদ জয় :

একসময় যেখানে পাসপোর্টযাত্রী আর পণ্যবাহী ট্রাকের সারিতে মুখর ছিল বন্দর, এখন সেখানে সীমিত ভিসায় কমে গেছে মানুষের চলাচল ও বাণিজ্যের গতি

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল স্থলবন্দর একসময় ছিল বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধুত্ব, বাণিজ্য ও মানুষের আন্তরিক যোগাযোগের জীবন্ত প্রতীক। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বন্দরের প্রতিটি প্রান্তজুড়ে ছিল কর্মচাঞ্চল্য, ট্রাকের দীর্ঘ সারি, পাসপোর্ট যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় আর দুই দেশের মানুষের ব্যস্ত পদচারণা।
কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই চিরচেনা দৃশ্য যেন এখন স্মৃতির পাতায় বন্দি। আগের মতো আর দেখা যায় না শত শত মানুষের দীর্ঘ লাইন। নেই পণ্যবাহী গাড়ির কোলাহল কিংবা যাত্রীদের ব্যস্ত ছুটে চলা। একসময় যে বন্দর ছিল দুই দেশের অর্থনৈতিক ও মানবিক সম্পর্কের প্রাণকেন্দ্র, আজ সেখানে যেন নেমে এসেছে এক ধরনের নীরবতা।
বর্তমানে সীমিত আকারে শুধুমাত্র বিজনেস ভিসা ও মেডিকেল ভিসাধারীরা প্রতিদিন ভারত যাতায়াত করছেন। ফলে চিকিৎসা, ব্যবসা ও আত্মীয়তার বন্ধনে জড়িয়ে থাকা হাজারো মানুষের চলাচল অনেকটাই কমে গেছে। বিশেষ করে চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতে ইচ্ছুক সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। অনেকে সময়মতো ভিসা না পেয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বেনাপোল বন্দরের ব্যবসায়ীদের মতে, আগে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ ভারত যাতায়াত করতেন। এতে বন্দরের আশপাশের হোটেল, পরিবহন, দোকানপাট ও ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলো প্রাণ ফিরে পেত। এখন সেই ব্যবসাগুলোও অনেকটা ধীর হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, বাংলাদেশ ও ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের জায়গা থেকে ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ ও উন্মুক্ত করা হলে দুই দেশের মধ্যে আবারও মানুষের যাতায়াত বাড়বে। বিশেষ করে চিকিৎসা ভিসা সহজলভ্য হলে হাজারো রোগী ও তাদের পরিবার উপকৃত হবেন। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যেও ফিরে আসবে পুরোনো গতি।
বেনাপোল বন্দরের সেই পুরোনো ব্যস্ততা আজও মানুষকে স্মৃতিময় করে তোলে। কেউ কেউ এখনও দাঁড়িয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন“এই বন্দর একসময় ঘুমাতো না, দিন-রাত ছিল মানুষের ঢল।”
দুই বাংলার মানুষের হৃদয়ের যে সেতুবন্ধন বছরের পর বছর ধরে গড়ে উঠেছে, সেই সম্পর্কের উষ্ণতা ফিরিয়ে আনতে এখন প্রয়োজন সহজ যোগাযোগ, সহজ ভিসা এবং আন্তরিক উদ্যোগ। তবেই হয়তো আবারও প্রাণ ফিরে পাবে দেশের সবচেয়ে বড় এই স্থলবন্দর।ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *