স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর শহরতলীর ধর্মতলা কর্মকার পাড়ায় ভারী বৃষ্টির মধ্যে বাড়ির পাশে খেলার অপরাধে চতুর্থ শ্রেণির এক অবুঝ স্কুলছাত্রকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম করার ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। এই অমানবিক শিশু নির্যাতনের ঘটনায় পুরো এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। আজ শুক্রবার (১০ জুলাই ২০২৬) দুপুর আনুমানিক পৌনে দুইটার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত শিশুটির নাম তীর্থ কর্মকার (১০)। সে স্থানীয় পত্রিকার হকার শিবু কর্মকারের ছেলে এবং চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। বর্তমানে সে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুরে যশোর এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হলে শিশু তীর্থ কর্মকার আনন্দ নিয়ে নিজ বাড়ির পাশের একটি উঠানে খেলছিল। এ সময় হঠাৎ প্রতিবেশী অজিত কর্মকারের ছেলে মুক্ত কর্মকার (৩৪) কোনো কারণ ছাড়াই প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হয়ে একটি শক্ত লাঠি নিয়ে শিশুটির ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। মুক্ত কর্মকার শিশুটিকে লক্ষ্য করে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে তার মাথা, কানসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম করে। লাঠির আঘাতে শিশুটির মাথা ও কান ফেটে প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে শুরু করলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে চিৎকার করতে থাকে।
পরে তার আর্তচিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা এবং প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে এসে রক্তাক্ত ও অজ্ঞান অবস্থায় তীর্থকে উদ্ধার করেন। তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটির মাথায় প্রচণ্ড আঘাত লেগেছে এবং তার কান ফেটে যাওয়ায় সেখানে সাতটি সেলাই দিতে হয়েছে।
এদিকে, একজন হকারের ১০ বছর বয়সী অবুঝ শিশুর ওপর প্রতিবেশী যুবকের এমন বর্বরোচিত ও অমানবিক হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে ধর্মতলা কর্মকার পাড়ার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়ে অভিযুক্ত মুক্ত কর্মকারকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক আইনি শাস্তি নিশ্চিতের দাবি তুলেছেন।
আহত শিশু তীর্থ কর্মকারের অসহায় পরিবার এই হামলার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, সুনির্দিষ্ট ন্যায়বিচার এবং দোষী মুক্ত কর্মকারের কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি ও তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন এবং লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তিসাপেক্ষে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ছবি সংগৃহীত।


