ঝিকরগাছা(যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় সমাজের সবচেয়ে অসহায় ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী) এক কিশোরীকে দিনেদুপুরে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে বাঁশবাগানের ভেতর নিয়ে নির্মমভাবে ধর্ষণ করার এক জঘন্য ও ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। এই অসভ্য ও পাশবিক নির্যাতনের খবর পাওয়ার সাথে সাথেই সর্বোচ্চ অ্যাকশনে নেমেছে ঝিকরগাছা থানা পুলিশ। ঘটনার প্রধান ও একমাত্র অভিযুক্ত লম্পট ভ্যানচালক মতলেব আলী (৫৫)-কে ১২ ঘণ্টার মধ্যে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে উপজেলার গদখালী ইউনিয়নে এই ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী অসহায় কিশোরীর মা আমেনা খাতুন বাদী হয়ে ঝিকরগাছা থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।
ঝিকরগাছা থানা পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরী (১৪) জন্মগতভাবেই একজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এবং সে সাধারণত নিজের বাড়ির আশেপাশেই খেলাধুলা করত। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত তার মা আমেনা খাতুন পারিবারিক কাজে ঘরের ভেতরেই ছিলেন। ওই সময় কিশোরীটি বাড়ির পাশের একটি নির্জন বাঁশবাগানের কাছে একাকী খেলছিল। এই সুযোগে তাদের পূর্বপরিচিত ও প্রতিবেশী লম্পট ভ্যানচালক মতলেব আলী (৫৫) কিশোরীটির সরলতার সুযোগ নিয়ে খাবারের প্রলোভন ও চকোলেটের লোভ দেখিয়ে সুকৌশলে ডেকে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে সকাল ১০টার দিকে ছায়েরা বেগম নামের এক প্রতিবেশী নারী ওই বাঁশবাগানের ভেতরের একটি মাটির রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় আপত্তিকর অবস্থায় মতলেবকে দেখতে পান। লম্পটের এই জঘন্য কাণ্ড দেখে ছায়েরা বেগম চিৎকার ও শোরগোল শুরু করলে কিশোরীর মা আমেনা খাতুনসহ আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান।
মেয়ের মায়ের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত ধর্ষক মতলেব আলী উলঙ্গ অবস্থায় নিজের ভ্যান গাড়িটি স্টার্ট দিয়ে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ সময় ভুক্তভোগী কিশোরীটিকে সম্পূর্ণ বিবস্ত্র ও রক্তাক্ত অবস্থায় বাগানের মাঝখানে দাঁড়িয়ে কাঁদতে দেখা যায়। পরে প্রতিবেশীদের উপস্থিতিতে মা জিজ্ঞাসা করলে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কিশোরীটি ইশারা-ইঙ্গিতে ও ভাঙা মুখে জানায় যে, তাকে খাবারের লোভ দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছে।
ঘটনার পর পরই পুরো গদখালী ইউনিয়ন জুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ভুক্তভোগী পরিবারটি আজ দুপুরে ঝিকরগাছা থানায় হাজির হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি এজাহার দায়ের করলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে একাধিক টিম নিয়ে মাঠে নামে।
ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম কিবরিয়া হাসান ঘটনার সত্যতা ও আসামিকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, “বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন একটি শিশুর ওপর এমন অপরাধমূলক নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনাটি জানার সাথে সাথেই আমাদের চৌকস পুলিশ টিম বিভিন্ন ডেরায় ঝটিকা তৎপরতা চালিয়ে অভিযুক্ত আসামি মতলেব আলীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হচ্ছে এবং আসামিকে কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হবে।” লম্পট মতলেবের এই জঘন্য অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন ঝিকরগাছার সর্বস্তরের সচেতন নাগরিক সমাজ। ছবি সংগৃহীত।


