ঝিকরগাছায় বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা : মা ও ৮ মাসের শিশু হাসপাতালে ভর্তি

ঝিকরগাছায় বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা : মা ও ৮ মাসের শিশু হাসপাতালে ভর্তি

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে এক গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আত্মহননের চেষ্টায় বাধা দিতে গেলে দুর্ঘটনাবশত মায়ের কোলে থাকা ৮ মাস বয়সী এক শিশু সন্তানও বিষক্রিয়ার শিকার হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় মা ও তার অবোধ শিশুকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল সোমবার (২২ জুন) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ঝিকরগাছা উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের শেয়ালঘোনা গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিরা হলেন— শেয়ালঘোনা গ্রামের মামুনের স্ত্রী সোনিয়া (২৫) এবং তাঁদের ৮ মাস বয়সী একমাত্র পুত্র সন্তান রাইয়ান।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে মামুন ও তাঁর স্ত্রী সোনিয়ার মধ্যে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কলহ ও মানসিক দূরত্ব চলে আসছিল। গতকাল সোমবার সকালে তাঁদের মধ্যকার পারিবারিক কলহ তীব্র আকার ধারণ করে। একপর্যায়ে সোনিয়া চরম ক্ষোভ ও অভিমানে ঘর থেকে কীটনাশক (বিষ) এনে তা পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় সোনিয়ার স্বামী মামুন বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত তাঁর দিকে ছুটে যান এবং সোনিয়ার হাত থেকে বিষের বোতলটি কেড়ে নিয়ে আত্মহননের চেষ্টায় বাধা দিতে যান। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সোনিয়ার কোলে থাকা ৮ মাসের শিশু রাইয়ানের মুখে দুর্ঘটনাবশত বিষের বোতলটি লেগে যায় এবং কিছু বিষ তার পেটে চলে যায়। এতে মা ও শিশু সন্তান— দুজনেই তীব্র বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ঘরের মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে ছটফট করতে থাকে।

ঘর থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে পরিবারের অন্য সদস্যরা ও প্রতিবেশীরা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করেন। প্রথমে তাঁদের ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মা ও শিশুর পাকস্থলী ওয়াশ করে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। তবে শিশু রাইয়ানের বয়স কম হওয়ায় এবং বিষক্রিয়ার মাত্রা ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়ায় উন্নত ও নিবিড় চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

বর্তমানে শিশু রাইয়ান যশোর জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে এবং মা সোনিয়া মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মা ও শিশু দুজনের শরীর থেকেই বিষ অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে শিশু রাইয়ানকে পুরোপুরি আশঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছে না; চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থার ওপর সার্বক্ষণিক গভীর ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ বজায় রাখছেন। পারিবারিক সামান্য অশান্তির জেরে নিষ্পাপ শিশুর এমন জীবন বিপন্নের ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *