রফিক মন্ডল, কোটচাঁদপুর ঝিনাইদহ থেকে : ৬ জুন -২০২৬
বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব রুখতে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের বিশেষ উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের লক্ষ্যে এক বর্ণাঢ্য সচেতনতা র্যালি ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার (৬ জুন, ২০২৬) দিনভর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই সময়োপযোগী সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
ঝিনাইদহের বিজ্ঞ জেলা প্রশাসক জনাব নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ আলোচনা সভায় ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধের নানা উপায়, এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করার কৌশল এবং জ্বর হলে সময়মতো সঠিক সরকারি চিকিৎসা গ্রহণের গুরুত্ব অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়। সভায় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন স্পষ্ট করে বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের সবচেয়ে বড় ও কার্যকর শক্তি হলো ব্যক্তিগত ও সামাজিক সচেতনতা। তিনি জেলার সর্বস্তরের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রত্যেকের বাড়ির আশপাশে এবং আঙিনায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, যেকোনো খোলা পানির পাত্র সবসময় ঢেকে রাখা এবং সর্বোপরি নিজেদের চারপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন বজায় রাখার মাধ্যমে এডিস মশার বংশবিস্তার অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব। তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আরও উল্লেখ করেন, এই মৌসুমে শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা জ্বর হলে কোনো প্রকার অবহেলা না করে অত্যন্ত দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে গিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসাব্যবস্থার নিশ্চয়তা দিয়ে জেলা প্রশাসক জানান, ইতিমধ্যেই ঝিনাইদহ জেলার প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিট, ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় সব ধরণের আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন তাঁর বক্তব্যে ডেঙ্গু দমনে প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, সরকারের বিশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী এখন থেকে জেলার প্রতিটি স্তরে প্রতি শনিবার একযোগে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ডেঙ্গু বিষয়ে সচেতন করতে বিশেষ প্রচারণা সেল গঠন, প্রতি জুমাবারে মসজিদের খুতবার মাধ্যমে সাধারণ মুসল্লিদের মাঝে ধর্মীয় ও সামাজিক জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে শহর ও গ্রাম জুড়ে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও মশা মারার বিশেষ লার্ভিসাইড স্প্রে কার্যক্রম বহুগুণ জোরদার করা হয়েছে। ডেঙ্গুমুক্ত একটি সুস্থ ও নিরাপদ জেলা গঠনে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে উল্লেখ করে তিনি পরিচ্ছন্ন ও সচেতন ঝিনাইদহ গড়ে তুলতে জেলার প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান। ছবি সংগৃহীত।


